কুমিল্লায় বৌ-ভাত অনুষ্ঠানে নববধূকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা গ্রেফতার ৭ জন রিমান্ডে

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:১৭

কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লায় বৌ-ভাত অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়ে নববধূকে তুলে নেওয়ার চেষ্টাকালে স্থানীয় জনতা গণপিটুনি দিয়ে ৭ সন্ত্রাসীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে জেলার দেবিদ্বার উপজেলার সাহারপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিমসার জুনাব আলী ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে বৌ-ভাত অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ঐ কলেজের ছাত্রলীগ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

আটককৃতরা হচ্ছে, জেলার বুড়িচং উপজেলার নামতলা গ্রামের জাফর হোসেন (১৮), কোরপাই গ্রামের সজিব পাল (১৮), চান্দিনা উপজেলার এতবারপুর গ্রামের কাউছার আহম্মেদ (২০), আদর্শ সদর উপজেলার আনন্দসার গ্রামের আলী হোসেন (২০), দেবিদ্বার উপজেলার জাফরাবাদ গ্রামের মেহেদী হাসান (১৮), সূর্যপুর গ্রামের মো. আলম (২২), মহরং গ্রামের নাইদুল ইসলাম (১৮)। শনিবার এই সাতজনকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ইসমাইলসহ অপর সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেবিদ্বার উপজেলার সূর্যপুর গ্রামের এক মেয়ের সঙ্গে গত ১ ফেব্রুয়ারি একই উপজেলার সাহারপাড় গ্রামের মো. ইউনুছের ছেলে ছিদ্দিকুর রহমানের (২৫) বিয়ে হয়। শুক্রবার বরের বাড়িতে বৌ-ভাতের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে কনের কলেজের সহপাঠী, কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে দুপুর আড়াইটার দিকে ২৫/৩০ জনের একদল বখাটে সন্ত্রাসী অতর্কিত হামলা চালিয়ে লোকজনকে মারধর করে কনেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় স্থানীয় লোকজন ওই সন্ত্রাসীদের ঘিরে ফেলে এবং গণপিটুনি দিয়ে ঘরের একটি কক্ষে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়।

দেবিদ্বার থানার এসআই সোহরাব হোসেন জানান, বিয়ের খবর পেয়ে ইসমাইল ক্ষুব্ধ হয়ে একদল বখাটে সন্ত্রাসী নিয়ে বৌ-ভাত অনুষ্ঠানে হামলা চালায়। এ সময় স্থানীয় জনতা তাদের ৭ জনকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে খবর দেয়। এ ঘটনায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে রাতে থানায় মামলা হয়েছে। পলাতক ইসমাইলসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।