>> আসাদুজ্জামান বুলবুল
যান্ত্রিক শহরে নাগরিক কোলাহলে সবাই নিজের মতো ব্যস্ত। অনেকের ব্যস্ততার পারদ এতটাই উপরে যে নিজের জন্যও ভাবার সময় নেই! একজন মানুষ হিসেবে দেশ এবং সমাজের জন্য যে কিছু দায়িত্ব আছে অধিকাংশ মানুষের এই বোধশক্তিই যেন নেই। কিন্তু এই ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা পরিহার করে চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের শিক্ষার্থী ইমরান সাঈদ রবিন রেলস্টেশনের অনাথ শিশু, বস্তির সুবিধাবঞ্চিত এবং স্বল্প আয়ের পরিবারে সন্তানদের জন্য চট্টগ্রামের ঝাউতলা খুলশী রেলগেট সংলগ্ন বস্তিতে ২০১৯ সালে চালু করেন ‘হোপ স্কুল’।
বর্তমানে সেই স্কুলে প্রায় ৩৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। এসব সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা হয়তো দারিদ্রতা, ক্ষুধা কিংবা পারিপার্শ্বিক কারণে অন্ধকার জগতে চলে যেত কিংবা সমাজের মূলধারা থেকে ছিটকে পড়তো; শিক্ষা কিংবা অক্ষরজ্ঞান হয়তো তাদের স্পর্শ করতো না। কিন্তু ইমরানের মানবিকতা ও উদারচিন্তার কারণে আজ এখানকার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অনেকেই জ্ঞানের আলোয় আলোকিত।
বিদ্যালয়টি ইমরান সাঈদ রবিন ও তার সহপাঠীদের স্বেচ্ছাশ্রমে পরিচালিত হয় এবং সমাজের কিছু কর্তব্যপরায়ণ ব্যক্তি শিক্ষা সামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করে থাকেন। এই স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি সহ-শিক্ষা কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়। বিশেষ করে শিশুদের মেধাবিকাশের জন্য কবিতা, ছড়া আবৃত্তি ও রচনা প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন জ্ঞানমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন তারা।
সমাজের বিত্তবানদের মনোভাব যদি পরিবর্তন হতো হয়তো পৃথিবীতে এত অনাথ আশ্রম কিংবা বৃদ্ধাশ্রম হতো না। ক্ষুধা কিংবা দারিদ্রতার সঙ্গে যুদ্ধ করতে হতো না শিশুদের। একটি শিশুর ভবিষ্যত্ বিকশিত হওয়ার আগেই ঝড়ে যেত না। আমাদের সমাজের মানুষদের তরুণ ইমরানের মতো মানসিকতা তৈরি করতে হবে। আলো ছড়ানো যাত্রাপথে এমন উদ্যমী তরুণদের দরকার যারা অধিকারবঞ্চিত অবহেলিতদের কল্যাণে ভাবনা-চিন্তা করবে।
