শিল্পী থেকে উদ্যোক্তা

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৯:৪৮

>> ফারহান ইশরাক

 

ছবি আঁকার শখ সেই ছেলেবেলা থেকেই। ইচ্ছে ছিল কোনো আর্ট স্কুলে ভর্তি হয়ে ছবি আঁকায়  হাতটাকে আরেকটু পাকিয়ে নেওয়ার। কিন্তু সেই সুযোগ আর হয়নি। তবে আর্ট স্কুলে ভর্তি না হলেও ছবি আঁকা চালিয়ে গেছেন নিজের মতো করে। শখ আর স্বপ্নকে সযত্নে লালন করেছেন। ছবি আঁকার শখ থেকে ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছেন নিজের প্রতিষ্ঠান ‘শিল্পঘর’। বলছিলাম ফাবিয়া তামান্নার কথা। সবেমাত্র এইচএসসি পাশ করেছেন। ছবি আঁকতে ভালোবাসেন। ভালোলাগার কাজটিকে পুঁজি করেই নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলেছেন। ফাবিয়ার ‘শিল্পঘর’র যাত্রা শুরু বেশ সাধারণভাবেই। নিজের শিল্পকর্ম বন্ধুদের  মাঝে ছড়িয়ে দিতে ফেসবুকে পেজ  খুলেছিলেন। সেটিও নিজের নামেই। তখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি এই পেজকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিবেন কি না। তাই কয়েক মাস ধরে চলল ব্যাপক প্রস্তুতি; ছবি আঁকার হাতকেও ঝালিয়ে নিলেন ভালোমতো। এরপর ২০২০ সালের ৮ আগস্ট যাত্রা শুরু করল ‘শিল্পঘর’। পেজের মাধ্যমে নিজের শিল্পকর্মকে সারা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া শুরু করলেন ফাবিয়া। জল রং, প্যাস্টেল, অ্যাক্রেলিকে আঁকা ছবির সম্ভার যেন এই শিল্পঘর। চাইলে নিজের পছন্দমতো ছবিও অর্ডার করা যাবে পেজে। ছবির মাধ্যম ও আকার ভেদে মূল্য নির্ধারিত হয়েছে। তবে ফাবিয়া জানান, ছবির আকার যা-ই হোক না কেন, অর্ডার করার ৩-৪ দিনের মধ্যেই পছন্দের  ঠিকানায় ছবি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। পোর্ট্রেট বা প্রাকৃতিক দৃশ্যের পাশাপাশি বুক কাভারের হরেক রকম ডিজাইনও রয়েছে শিল্পঘরে। ছবি আঁকা থেকে শুরু করে প্যাকেজিং ও ক্রেতাদের হাতে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত সব কাজ ফাবিয়া একাই করেন। এভাবেই শিল্পী থেকে হয়ে উঠেছেন একজন উদ্যোক্তা। এর পাশাপাশি চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি। এবার স্বপ্ন দেখছেন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে পড়ার। ফাবিয়া জানান, আমি স্বপ্ন দেখি শিল্পঘরকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার। আমাদের দেশের অনেক ঐতিহ্যবাহী শিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে। আমি চাই শিল্পঘরের মাধ্যমে সারা বিশ্বে আমাদের শিল্প পৌঁছে দিতে।’