ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:০৬

বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, ‘বন্যেরা বনে সুন্দর আর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে’। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রকৃত স্থান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। করোনা মহামারীর কারণে দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হলেও শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এক বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের  মুখে পড়তে হবে। কারণ  বেশির ভাগ শিক্ষার্থী দুটি শ্রেণির পাঠক্রম থেকে কিছুই শিখতে পারেনি। একজন শিক্ষার্থী বর্তমানে যে শ্রেণিতে আছে, পূর্ববর্তী শ্রেণির পাঠক্রম থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তার পক্ষে বর্তমান শ্রেণির লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়বে। এক্ষেত্রে শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, বরং শিক্ষকদেরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অত্যন্ত সুচিন্তিত ও সুপরিকল্পনার মধ্য দিয়েই শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে হবে। পূর্ববর্তী শ্রেণির অন্তত বাংলা ব্যাকরণ, ইংরেজি গ্রামার ও গণিত বিষয়ের সংক্ষিপ্ত ধারণা দেওয়ার পরই বর্তমান শ্রেণির পাঠক্রম শুরু করা উচিত। ভবিষ্যতে পরবর্তী শ্রেণিতে যাতে অসুবিধা না হয়, সেজন্য বর্তমান শ্রেণির পাঠক্রমের বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রণয়ন করে আগামী দুই মাসের মধ্যে পাঠদান শেষ করা একান্ত প্রয়োজন। কোনো অবস্থাতেই অটোপাস না দিয়ে ডিসেম্বরের শেষ দিকে সংক্ষিপ্ত বিষয়ের পরীক্ষা নিয়ে শতভাগ শিক্ষার্থীকেই পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করে আগামী জানুয়ারি মাসের প্রথম থেকেই শিক্ষা বছর শুরু করতে হবে। একইসঙ্গে উদ্যোগ নিতে হবে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনার। আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের বকেয়া বেতন, ভর্তি ফি, উন্নয়ন ফি ইত্যাদি মওকুফ করা হলে অনেক ঝরে পড়া শিক্ষার্থীকেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। কাজেই শিক্ষাক্ষেত্রে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জসমূহ গুরুত্বের সঙ্গেই বিবেচনায় নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসতে হবে এ ব্যাপারে।

বিপ্লব বিশ্বাস

গোয়ালচামট, ফরিদপুর