মিয়ানমারে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের আহ্বান ছায়া সরকারের

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:২১

আসিয়ানের অস্ত্রবিরতির প্রস্তাবে রাজি জান্তা

রয়টার্স ও আলজাজিরা

মিয়ানমার জান্তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের আহ্বান জানিয়েছে দেশটির ছায়া সরকার। মঙ্গলবার মিয়ানমারের জাতীয় ঐক্য সরকারের (এনইউজি) ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দুয়া লাশি লা ফেসবুকের এক ভিডিওতে এ ঘোষণা দেন। এদিকে অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান ন্যাশনস (আসিয়ান) এর অস্ত্রবিরতির প্রস্তাবে রাজি হয়েছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার।

দুয়া লাশি লা বলেন, ‘জনগণের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্ব থেকে জাতীয় ঐক্য সরকার সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে জনতার প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করেছে। এটি একটি গণবিপ্লব। তাই মিয়ানমারের সব নাগরিক দেশের প্রতিটি প্রান্তে মিন অং হ্লেইংয়ের নেতৃত্বাধীন সামরিক সন্ত্রাসীদের শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে।’ ভিডিওবার্তায় দুয়া লাশি লা মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের অভিযোগ তোলেন এবং তাদের ওপর বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে ‘অবিলম্বে আক্রমণ’ করার আহ্বান জানান। পিডিএফ (পিপলস ডিফেন্স ফোর্স) সদস্যদের যার যার এলাকায় সামরিক জান্তা ও এর সম্পত্তিতে হামলা চালানোরও নির্দেশ দেন মিয়ানমার ছায়া সরকারের প্রধান।

এছাড়া জান্তা সরকারের নিয়োগ দেওয়া আমলাদের পদত্যাগ করার আহ্বান জানান এনইউজি নেতা। পাশাপাশি, সীমান্তরক্ষী ও সেনা সদস্যদের ‘জনগণের সঙ্গে যোগ দিতে এবং জনতার শত্রুদের আক্রমণ করতে’ আহ্বান জানান দুয়া লাশি লা। তিনি বলেন, ‘সামরিক কাউন্সিলের অধীনে যত বেসামরিক কর্মচারী রয়েছেন, আজ থেকে আপনাদের অফিসে যেতে নিষেধ ও সতর্ক করছি। আমরা মিন অং হ্লেইংকে অপসারণ করে মিয়ানমার থেকে স্বৈরশাসন উত্খাত করব এবং একটি শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা করব, যা সব নাগরিকের সমান অধিকার সুরক্ষিত করবে।’

গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির এনএলডি (ন্যাশনাল লি ফর ডেমোক্র্যাসি) সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে দেশটির সামরিক বাহিনী। জান্তাকে অবৈধ ঘোষণা দিয়ে একটি ছায়া সরকার গড়ে তোলেন মিয়ানমারের রাজনীতিবিদরা, যার বেশির ভাগ সদস্যই এনএলডির। অবশ্য মিয়ানমার জান্তা এনইউজিকে ‘সন্ত্রাসী’ বলে ঘোষণা দিয়েছে।

এদিকে অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান ন্যাশনস (আসিয়ান) এর অস্ত্রবিরতির প্রস্তাবে রাজি হয়েছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। মিয়ানমারে মানবিক ত্রাণ বিতরণ নিশ্চিত করতে এ বছরের শেষ নাগাদ অস্ত্রবিরতির ডাক দেওয়া হয়েছিল আসিয়ানের পক্ষ থেকে। মিয়ানমারে গত ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে সেখানে সহিংসতা বন্ধের চেষ্টা করে আসছে আসিয়ান। জান্তা সরকার ক্ষমতায় আসার পর মিয়ানমারে সহিংসতায় শত শত মানুষ মারা গেছে। আসিয়ান দেশটিতে সামরিক শাসক ও এর বিরোধীদের মধ্যে আলোচনা শুরুরও চেষ্টা করে আসছে। আসিয়ানের মুখপাত্র এরিওয়ান ইউসুফ মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উন্না মং লুইনের সঙ্গে এক ভিডিও কনফারেন্সে অস্ত্রবিরতির প্রস্তাব দেন। তার প্রস্তাবে মিয়ানমারের সামরিক সরকার রাজি হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন ইউসুফ।