কৃষকদের ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তাল ভারতের হরিয়ানা রাজ্য। গতকাল হরিয়ানার কারনালে ‘মিনি সচিবালয়’ ঘেরাও করতে গেলে কৃষকদের বাধা দেয় পুলিশ। এসময় কৃষকদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করা হয়, আটক করা হয় কৃষক আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের। যদিও পরে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, গত ২৮ আগস্ট কারনালে কৃষকদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। সে সময় আহত হন সুশীল কাজলা নামের এক কৃষক। যদিও পুলিশের দাবি ছিল, হূদরোগে তার মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু কৃষক নেতা রাকেশ টিকাইত জানিয়েছিলেন, সুশীল কাজলার মৃত্যুর বিচার দাবিতে মহাপঞ্চায়েত, বিক্ষোভ মিছিল হবে।
কৃষকদের প্রস্তাবিত এই মহাপঞ্চায়েতকে কেন্দ্র করে গতকাল হরিয়ানার কারনাল শহরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। মোবাইল, ইন্টারনেট ও এসএমএস পরিষেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু কৃষকরা সব নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে জড়ো হতে শুরু করেন। গতকাল বিকেলে কৃষকদের পক্ষ থেকে ১১ জন প্রতিনিধিকে আলোচনায় ডাকে পুলিশ। কিন্তু সেই আলোচনা ব্যর্থ হলে কৃষকরা মিছিলসহ রওনা হয় জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের দিকে। কৃষকরা ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে গেলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধলে কৃষকদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। বেশ কয়েকজন কৃষক নেতাকে আটক করা হয়। তার মধ্যে ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের প্রধান রাকেশ টিকাইতও ছিলেন। যদিও কিছুক্ষণ পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত বছর নভেম্বর থেকে কৃষকদের আন্দোলন চলছে। প্রথম থেকেই কৃষকরা তিনটি কৃষি আইন বাতিল করার দাবি করে চলেছেন। সরকারের সঙ্গে একাধিক আলোচনাও হয়েছে, কিন্তু সমাধান আসেনি।
