বইমেলায় সবাইকে স্বাগতম! বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশের বইমেলা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে অসংখ্য বই আমন্ত্রণ জানায়। নীরবে শোনা যায় সেই আমন্ত্রণ। জানি না, আমি যেভাবে বইগুলোর কাছ থেকে নিঃশব্দ সাড়া পাই, সেই সাড়া অন্য পাঠকেরা পান কি না। কিন্তু ধারণা করি, সব পাঠকই পান। আমার ধারণা বইপ্রেমী সব পাঠকের হূদয়ে এই আমন্ত্রণ বার্তা পৌঁছে যায়। শুধু ঢাকা নয় দেশের নানা প্রান্তে, দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে যেখানে বাঙালিরা রয়েছেন, সেখানেও পৌঁছে যায় সেই আমন্ত্রণ।
নতুন বইয়ের আমন্ত্রণ যদি নাই পৌঁছাবে তাহলে বইমেলায় মানুষের এই ঢল কীসের? কিসের টানে আসছেন তারা? এক একটা বই লেখকের বিচিত্র ও বিস্ময়কর অনুভব অনুষঙ্গ বুকে ধারণ করে মেলায় আসে। পাঠক সেই বইয়ে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন। বই কথা বলে পাঠকের সঙ্গে।
এ বছরের বইমেলার সৌকর্য আগের যে কোনো বইমেলাকে ছাড়িয়ে গেছে। কারণ বইমেলা যথার্থভাবে প্রস্তুত করার জন্য এ বছর যুক্ত হয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পী ও স্থপতি। বিশাল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সেজেছে বর্ণাঢ্যভাবে। বড় বড় রাস্তা, একটি স্টল থেকে আর একটি স্টলের মধ্যে প্রচুর জায়গা। একজন বা দলগতভাবে যারা আসছেন বই কিনতে, অনায়াসে প্রিয় বা পছন্দের বইটি কিনতে পারছেন, দেখতে পারছেন। এবারের বইমেলার আর একটি অনন্য দিক, উদ্যানের বিশাল স্বাধীনতা টাওয়ারের সঙ্গে বইমেলা একাকার করে দেওয়া হয়েছে। মাঝখানে কোনো দেয়াল নেই। ফলে মেলার দৃষ্টিনন্দন সৌকর্য প্রবলভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
আমার ভালো লাগে পাঠকের কাছে বই পৌঁছে দেওয়ার এই বিশাল কর্মযজ্ঞ। এমন ভালোলাগার অনুভূতি হয় যা বলে বোঝানোর নয়। আমি গল্প লিখি। মানুষের গল্প। গত চৌদ্দ বছর ধরে প্রতিমেলায় আমি মানুষের গল্প নিয়ে মেলায় আসি। সেই ধারাবাহিকতায় মাওলা ব্রাদার্স থেকে এবার আসছে গল্পের বই ‘ইলিশের মাংস’। পনেরটি গল্প নিয়ে, ধ্রুব এষের প্রচ্ছদে। মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস ‘কিংবদন্তীর ভাগীরথী’ আসছে বেহুলাবাংলা থেকে। ১৯৭১ সালে পিরোজপুর মহকুমা শহরে ভাগীরথী নামে এই নারীকে পাকিস্তানের বর্বর সেনাবাহিনী গাড়ির পিছনে বেঁধে রাস্তায় টেনে-হেঁঁচড়ে হত্যা করেছিল, সেই ভাগীরথীকে নিয়ে আমার নিবেদন এই উপন্যাস। এ বছর অতিক্রম করছি জীবনের পঞ্চাশ বছর। এ উপলক্ষে কথাপ্রকাশ আনছে ‘পঞ্চাশ গল্প’ নামে একটি বই। এছাড়া ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের গল্প’ নামে আসছে আরো একটি বই, প্রকাশ করছে য়ারোয়া। লেখক:গল্পকার
