অপরাজিত সত্যজিত্-এ ববিতা

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:৩৯

আনন্দ বিনোদন প্রতিবেদক

সত্যজিত্ রায় অস্কারজয়ী বিশ্বনন্দিত এমনই একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা,  যাকে বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের অন্যতম একজন হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। গত ২১ মে ছিল বিশ্ববরেণ্য এই চলচ্চিত্র নির্মাতার শততম জন্মদিন। জন্মদিনে তার প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে ২৬ আগস্ট প্রকাশিত হলো ‘অপরাজিত সত্যজিত্’। এটি প্রকাশ করেছে কলকাতার কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশন সেন্টার। সত্যজিত্ রায়ের ‘পথের পাঁচালী’ মুক্তি পায় ১৯৫৫ সালের ২৬ আগস্ট। তাই সত্যজিত্ রায়ের জন্মের ১০০ বছর পূর্তিতে বইটি প্রকাশ করা হলো প্রথম সিনেমার মুক্তির দিনটিতে। পৃথিবীর আটটি দেশ যেমন বাংলাদেশ, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, জাপান, জার্মানি, কানাডা ও ভারত বর্ষের ৫৫ জন বিশিষ্ট লেখক এই বইটিতে লিখেছেন। বাংলাদেশ থেকে একমাত্র নন্দিত নায়িকা ববিতাই এই বইটিতে লেখার সুযোগ পেয়েছেন সত্যজিত্ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ সিনেমায় অভিনয়ের সুবাদে। বইটির ভূমিকা লিখেছেন সত্যজিত্ রায়ের চলচ্চিত্রের আরেক নায়িকা শর্মিলা ঠাকুর। এমন একটি বইয়ের অংশ হতে পেরে এবং বইটিতে সত্যজিত্ রায়কে নিয়ে কিছু  লিখতে পেরে ভীষণ গর্বিত ববিতা। কানাডা থেকে মুঠোফোনে ববিতা তার আনন্দ প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘বিশ্ববরেণ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিত্ রায়ের সিনেমায় কাজ করে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবতী মনে করি। বাংলাদেশের একজন মেয়ে হিসেবে সারা বিশ্বে আমি পরিচিত লাভ করেছি শুধুমাত্র তার সিনেমাতে অভিনয় করেই। তার জন্যই আমি বার্লিন, সোভিয়েত ইউনিয়ন, মস্কোসহ আরো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে অংশগ্রহণ করেছি। আমার দেশ আজও আমাকে নিয়ে সত্যজিত্ রায়ের চলচ্চিত্রে কাজ করার জন্যই গর্ব অনুভব করে। এখনো আমার বাড়ির প্রতিটি জায়গায় মানিক দা’র (সত্যজিত্ রায়) ছবি। তিনি আমার আপনজন। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আমি তার ছবিগুলো এখনো  বেশ আগ্রহ নিয়ে একাগ্রচিত্তে দেখি। আত্নীয়-স্বজনকে বলেছি, আমার মৃত্যুর পর আমার বাড়ি যেন বিক্রি বা ভাড়া না দেওয়া হয়। মানিক দা’র এই স্মৃতিগুলো আমি আমার ভক্তদের চিরদিন দেখাতে চাই। পরিশেষে অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা ভালোবাসা রইল কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশন সেন্টারের তাদের প্রতি যারা বইটি প্রকাশ করেছেন ভীষণ আন্তরিকতা নিয়ে।’ এদিকে ববিতা বর্তমানে কানাডায় তার একমাত্র ছেলে অনিকের কাছে আছেন। শিগগিরই তিনি আমেরিকা যাবেন তার ভাইদের সঙ্গে দেখা করতে। সেখানে তিনি তার নিয়মিত চেকআপও করাবেন বলে জানান। সেখান থেকে আবার তিনি ফিরে যাবেন ছেলের কাছে কানাডায়।