প্রকৃত অবস্থা জানতে জরিপ করবে বিবিএস
ইত্তেফাক রিপোর্ট
বাংলাদেশে শিশুর সংখ্যা সাড়ে ৬ কোটির বেশি। সে হিসাবে দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ শিশু। দেশে সর্বশেষ ২০০৩ সালে শিশু শ্রম জরিপ করা হয়। সেসময় দেশে প্রায় ৭৪ লাখ শিশু শ্রমকাজে নিয়োজিত ছিল। বর্তমান কোভিড-১৯ এর কারণে বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ এবং স্কুল বন্ধের কারণে ইতোমধ্যে শিশুশ্রমে নিযুক্ত শিশুদের অবস্থা খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশে শিশু শ্রমের সার্বিক অবস্থা জানতে ইতোমধ্যে শিশুশ্রম নতুন জরিপ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে বাংলাদশে পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। এ জরিপ কার্যক্রম আগামী জুন ২০২২ এর মধ্যে সম্পন্ন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি মিলনায়তে এই প্রকল্পের প্রস্তুতিমূলক কর্মশালায় এই তথ্য জানানো হয়।
বিবিএস আর্ন্তজাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) যৌথ উদ্যোগে এ জরিপ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। কর্মশালায় পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. এহছানে এলাহী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর তমো পৌটিনেন সম্মাননীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, কোভিডের কারণে হয়তো আরও খারাপ অবস্থার মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে শিশুদের। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অগ্রগতি পরিমাপ ও পর্যবেক্ষণের জন্য এই জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন খাঁন তার উপস্থাপনায় জানান, সর্বশেষ ২০০৩ সালের জাতীয় শিশুশ্রম সমীক্ষায় দেখা গেছে, তখন প্রায় ৭৪ লাখ কর্মরত শিশু ছিল। তাদের মধ্যে ৩২ লাখ শিশুর কাজ শিশুশ্রমের আওতায় ছিল। ২০০৩ সালে দেশে ১৩ লাখ শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ছিল। প্রায় এক দশকের ব্যবধানে কর্মরত শিশুর সংখ্যার পাশাপাশি শিশুশ্রম অর্ধেকে নেমে এসেছিল। তাই বর্তমান এই কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে শিশু শ্রমের প্রকৃত চিত্র জানা ও তথ্যের হালনাগাদকরণ জরুরি হয়ে পড়েছে। যার ফলশ্রুতিতে জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ ২০২১ গ্রহণ করা হয়েছে। এ জরিপ কার্যক্রম আগামী জুন ২০২২ এর মধ্যে সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা রয়েছে।
