বগুড়ার শেরপুরে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ খুন, চিকিত্সক ছেলে ও ভাই আহত

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৫৩

বগুড়ার শেরপুরে প্রতিপক্ষের সশস্ত্র হামলায় মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ নিহত হয়েছেন। তার নাম মাওলানা লুত্ফর রহমান (৭০)। তিনি উপজেলার গাড়ীদহ মডেল ইউনিয়নের রামেশ্বরপুর গ্রামের হাছেন আলী প্রামাণিকের ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের চিকিত্সক ছেলে ও ছোট ভাইও আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের রামেশ্বর গ্রামে মামুনুর রশিদ ও আব্দুল মান্নানের ১৯ শতক জায়গা রয়েছে। বর্তমানে সেটি বাঁশবাগান ও কবরস্থান হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। আর তার পাশের জমিটির মালিক স্থানীয় নগর জেএম সিনিয়র মাদ্রাসার প্রাক্তন অধ্যক্ষ মাওলানা লুত্ফর রহমান। বেশকিছুদিন ধরেই মামুন ও মান্নান তাদের পাশের জমিটি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। এমনকি ওই শিক্ষকের প্রায় আট শতক জমি জোরপূর্বক দখলে নিয়ে সেখানে বাঁশের বেড়া দেন।

একপর্যায়ে ঘটনাটি জানার পর বুধবার সকালের দিকে অধ্যক্ষ লুত্ফর রহমানের ছোট ভাই পল্লী চিকিত্সক মাহবুব রহমান ঘটনাস্থলে যান। একইসঙ্গে তার ভাইয়ের জায়গায় অবৈধভাবে দেওয়া বাঁশের বেড়া অপসারণ করেন এবং সেখানে গাছের চারা রোপণ করছিলেন। এই খবর পেয়ে প্রতিপক্ষ মামুন ও মান্নানের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে মাহবুবকে মারধর করেন। তাকে উদ্ধারে এগিয়ে যান লুত্ফর রহমান ও তার ছেলে কাহালু উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিত্সক মশিউল আলম। এসময় প্রতিপক্ষের সশস্ত্র লোকজন তাদের উপর হামলে পড়ে। এমনকি তাদেরকে বেধড়ক পেটায়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান মাওলানা লুত্ফর রহমান। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। এরপর আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন তারা।

নিহতের চিকিত্সক ছেলে মশিউল আলম অভিযোগ করে বলেন, কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই প্রতিপক্ষের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাদেরকে বেধড়ক মারধর শুরু করেন। এসময় আমার বৃদ্ধ বাবা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সেখানেও তার মাথায় প্রচ্ল আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাবা মারা যান।

এদিকে ঘটনাটি সম্পর্কে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মামুনুর রশিদ ও আব্দুল মান্নানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ঘটনার পর থেকেই পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।