মানিক মিয়া ফাউন্ডেশনের সভাপতি মইনুল হোসেন বলেন, গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর উত্তরাধিকার বহনকারী রাশেদ সোহরাওয়ার্দী নিজেকে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করলে তাঁর পিতার জনপ্রিয়তার সুযোগ নিতে পারতেন। শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মতো তিনিও উদার ও মহত্ মানবিক গুণাবলীর অধিকারী ছিলেন। নিজেকে চাপিয়ে দেয়া বিশ্বাস করতেন না। কারও কাছে কিছু চাইতেও তাঁর মর্যাদায় বাধতো। মনে-প্রাণে তিনি এদেশেরই একজন ছিলেন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি তিনি অকুণ্ঠ সমর্থন জানান এবং নানাভাবে সক্রিয় ছিলেন কিন্তু তিনি অবহেলিত থেকে গেলেন। শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ছেলে হিসেবে যাদের নিকট তিনি মর্যাদা ও মূল্যায়ণ আশা করেছিলেন তারা তা করেননি।
মেধায় ও প্রজ্ঞায় তিনি যে রাজনীতিমনস্ক ছিলেন সেটা বোঝা যায় তাঁর পিতার উপর মোহাম্মদ হা. র. তালুকদার সম্পাদিত ‘হুসেইন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দীর স্মৃতিকথা’ গ্রন্থে’র ড. কামাল হোসেনের মুখবন্ধের সঙ্গে ‘অনুস্মরণ’ অংশটি পাঠ করলে।
নিজে আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যে থাকলেও ঢাকায় ধানমন্ডীতে তাঁর পিতার রেখে যাওয়া জমির একাংশকে তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল এ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল এফেয়ার্সকে দান করে যান।
আব্বার সময়ে থেকেই রাশেদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক। আব্বার মৃত্যুর পর ঢাকা এলে মাঝে-মধ্যে তিনি আমাদের বাসায় উঠতেন। তবে বেশিরভাগ সময় তাদের আত্মীয় অর্থনীতিবিদ ড. রেহমান সোহবান ও সালমা রেহমানের বাসায় থাকতেন। আমি তাঁকে ইত্তেফাকের ডাইরেক্টর করতে এবং ঢাকায় থাকার সুব্যবস্থা করতে চেয়েছিলাম কিন্তু তিনি অসুবিধার কথা জানিয়ে আমার সে প্রস্তাব গ্রহণে সম্মত হননি।
রাশেদ সোহরাওয়ার্দীর আকস্মিক মৃত্যুতে আমি মর্মাহত। অল্পদিনের মধ্যে তাঁর ঢাকায় আসার কথা ছিল; কিন্তু তাঁর আর আসা হলো না!
শহীদ সোহরাওয়ার্দীর গড়া আওয়ামী লীগ আজ ক্ষমতায়। সেই সুবাদে আমার বিশ্বাস রাশেদ সোহরাওয়ার্দীর লাশ ঢাকায় এনে সমাহিত করা হলে তাঁর প্রতি যথাযোগ্য সম্মান দেখানো হবে।
