মৌসুমি

শরত্ সমারোহ

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৯:৫৬

‘প্রিয়তম আমার, ঐ চেয়ে দেখ, নববধূর ন্যায় সুসজ্জিত শরত্কাল সমাগত’—কালিদাসের দৃষ্টিতে শরত্কাল নববধূর মতো। ‘নীল আকাশে কে ভাসালো সাদা মেঘের ভেলা’—রবীন্দ্রনাথের কবিতায় এভাবেই শরতের উপস্থিতি। এরকম যুগে যুগে কবিগণ তাঁদের লেখায় শরেক বিভিন্ন মাধুর্য দিয়ে মালা গেঁথে লিখেছেন এবং সামনের দিনগুলোতেও লিখবেন। শরতের নিজস্ব রূপবিন্যাসে আকাশ মাটি বন, বৃক্ষ নদীতরঙ্গ সবই যেন হয়ে ওঠে অসাধারণ বর্ণময়।

বর্ষা শেষে শরত্ আসে। শরত্ আসে ঝলমলে আকাশের নির্মল হাওয়ায়। আকাশের বুকে নিরুদ্দেশে ভেসে বেড়ায় সাদা সাদা মেঘ। হঠাত্ অবার রোদ্দুর, তার পরপরই নেমে আসে মেঘের ছায়া; এ যেন মেঘ-রোদ্দুর লুকোচুরি খেলা। নদীর তীর ঘেঁষে কাশফুলের সমারোহ। উত্তরের বাতাসে সাদা কাশফুলের ঢেউ খেলা স্রোত, খালেবিলে পদ্ম, শাপলা প্রকৃতিকে সাজিয়ে তোলে প্রেয়সীর মতো। প্রভাতে ঝরে পড়া শেফালির সুগন্ধ মনে লাগায় ভালোবাসার রং। এছাড়াও মালতী, কামিনী, জুঁই, টগর মাথা উঁচিয়ে জানান দেয় সৌন্দর্য। মিষ্টি সুবাস ছড়িয়ে দেয় চারপাশে। শিশির ভেজা ঘাস আর বিস্তৃত দিগন্ত জুড়ে ধানখেতে রৌদ্র-ছায়ার হিল্লোলে মেতে ওঠে মন। সব সৌন্দর্যের সমাহার শরত্ ঋতুকে প্রকৃতই প্রকৃতির রানি করে তোলে। কিন্তু ইট-কাঠের এই নগরীতে শরত্ থেকে যায় অনেকটা অন্তরালে।

নূর মোহাম্মাদ আরিফ