সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
শহরের ঐতিহ্যবাহী ইলিয়ট ব্রিজের পূর্ব পার্শ্বেই সিরাজগঞ্জের প্রথম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। কিন্তু কালের বিবর্তনে চরম অবহেলা আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ইতিহাস সমৃদ্ধ এ শহীদ মিনারটি এখন ঢাকা পড়েছে দোকান-পাট আর কাঁচা বাজারে।
১৯৫২ সালের মার্চ মাস সিরাজগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গন ছিল উত্তপ্ত। আওয়ামী লীগ ও মুসলিম লীগের ভিত্তি ছিল শক্ত। মুসলিম লীগ ও সরকারের কড়া নজরদারীর কারণে শহীদ মিনার নির্মাণ ছিল কঠিন কাজ। কিন্তু সে সময়ের শ্রমিক নেতারাও ছিল নাছড়বান্দা। তাদের কথা ছিল শহীদ মিনার তারা গড়বেই। ১৯৫৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির আগের রাতে শ্রমিকরা বিভিন্ন স্থান থেকে ইট, বালি, সিমেন্ট এনে ইলিয়ট ব্রিজের পূর্বপার্শ্বে রাখে। শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য শ্রমিকরা ছাত্র, শিক্ষক ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠক করে। সিদ্ধান্ত হয়, ২০ ফেব্রুয়ারি শ্রমিক, ছাত্র জনতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা মিলে রাতের মধ্যেই শহীদ মিনার নির্মাণ করার। সকলের সর্বসম্মতিক্রমে তত্কালীন রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ বোচার ছেলে জিন্নত আলীকে দিয়ে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তরের ইট গড়ানো হয়। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকসেনা ও রাজাকাররা সেই অসমাপ্ত শহীদ মিনার ভেঙে দেয়। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৪ সালে পুনরায় সেই শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু সেটি হয় পূর্বের শহীদ মিনার থেকে প্রায় ১শ’ গজ দূরে। যেটি বর্তমানে সিরাজগঞ্জের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হিসেবে পরিচিত।
১৯৮৮ সালে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার মাধ্যমে পুনঃসংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই থেকে এটি আজ পর্যন্ত পৌরসভাই পরিচালনা করে আসছে।
ইতিহাস সমৃদ্ধ শহীদ মিনারের উভয়পার্শ্বে সিনেমা, দোকানপাট এবং কাঁচা বাজার বসার কারণে ঢাকা পড়েছে শহীদ মিনারটি। সিরাজগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতার কারণেই এমনটি হচ্ছে বলে শহরবাসীর দাবি।
সিরাজগঞ্জ:অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে থাকা ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি নির্মিত সিরাজগঞ্জের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার —ইত্তেফাক
