মুক্ত গণমাধ্যমের অঙ্গীকারের পরও সাংবাদিক নির্যাতন তালেবানের

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:০৭

মুক্ত গণমাধ্যমের অঙ্গীকারের পরও কাবুলে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সংবাদকর্মীদের নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তালেবানের বিরুদ্ধে। আফগানিস্তানে রাজধানী কাবুলে বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় দুই সাংবাদিককে আটক করে অমানবিক নির্যাতন করে তালেবান যোদ্ধারা। তাদের এ কর্মকাণ্ডের ফলে প্রশ্নের মুখে পড়েছে তাদেরই মুক্ত গণমাধ্যমের অঙ্গীকার।

কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বুধবার সকালে পশ্চিম কাবুলে তালেবান বিরোধী নারী বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহে দায়িত্ব পালনের সময় দেশটির সংবাদমাধ্যম এতিলাতরোজ পত্রিকার দুই সাংবাদিক তাকি দারইয়াবি ও নিমাতুল্লাহ নাকদিকে আটক করে তালেবান যোদ্ধারা। পুলিশ স্টেশনে কয়েক ঘণ্টা থাকার পর মুক্তি পান তারা। ছেড়ে দেয়ার সময় তাদেরকে বিক্ষোভের খবর সংগ্রহের বিষয়ে সতর্কতা জানানো হয়।

Afghan women protest, demand equal rights from Taliban | KTLA

এদিকে আটকের খবর পেয়েই সহকর্মীদের খোঁজ পত্রিকার সম্পাদক কাদিম কারিমিসহ পুলিশ স্টেশনে যান আরও দুই সাংবাদিক আবির সাইগান ও লুতফালি সুলতানি। সেখানে পৌঁছে তারা দেখেন, তাদের সহকর্মীদের ধাক্কাধাক্কি ও চপেটাঘাত করছে তালেবান যোদ্ধারা। এ সময় ওই দুই সাংবাদিকের মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য সামগ্রী জব্দও করা হয়।

আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আবির সাইগান জানান, কারিমির কথা শেষ হওয়ার আগেই এক তালেবান যোদ্ধা তাকে থাপ্পড় মেরে থামিয়ে দেয় এবং বের হয়ে যেতে বলে। আমরা আমাদের পরিচয় দেওয়ার পরও তারা (তালেবান) এমন আচরণ করে।

তিনি আরও বলেন, এরপর আমাদের তিন জনকে একটি ছোট্ট কারাগারে নেওয়া হয়, যেখানে আরও ১৫ বন্দি ছিলেন। তাদের মধ্যে দুই জন রয়টার্স ও তুরস্কের আনাদলু এজেন্সির সাংবাদিক ছিলেন। এ সময় দারইয়াবি ও নাকদিকে আলাদা ঘরে নিয়ে নির্যাতন চালাচ্ছিল তারা। সাইগান জানান, কারাগারে থাকা বাকিরা আমাদের জানান, দেয়ালের ওপার থেকে চিৎকার ও কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছিলো। এমনকি একজন নারীর ব্যাথায় কাতরানোর শব্দ শুনেছেন তারা।

তালেবানদের নির্যাতনের বাকি গল্প আরও স্পস্ট করে তুলে ধরে ওই পত্রিকার অনলাইনে পোস্ট করা একটি ছবি।  সেখানে স্পস্টভাবে দেখা যাচ্ছিলো দুই সাংবাদিককেই বেত্রাঘাত এবং তার দিয়ে মারধর করা হয়েছিল। দারইয়াবির পিঠ, উপরের পা এবং মুখ গভীর লাল ক্ষত দিয়ে আবৃত ছিল। নাকদির বাম হাত, পিঠের উপরের অংশ, উপরের পা এবং মুখের অধিকাংশ অংশে আঘাতের লাল চিহ্ন ছিল।

Afghanistan: How the Taliban gained ground so quickly - BBC News

সাইগান জানান, তালেবান যোদ্ধাদের হাতে আটক অবস্থায় প্রচণ্ড নির্যাতনের শিকার হন এই দুই সাংবাদিক। তাদের এতটাই মারধর করা হয়েছিল যে তারা হাঁটতে পারছিলেন না।তাদেরকে চপেটাঘাত, লাথি, ক্যাবল ও বন্দুক দিয়ে আঘাত করা হয়। নির্যাতন এতটাই নৃশংস ছিল যে নাকদি এবং দারইয়াবি ব্যথায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন।

শুধু সাংবাদিকদেরই যে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, তা নয়। সাইগান বলেন, একজন পুরুষ বিক্ষোভকারীকে তালেবান রক্ষীরা তাদের কক্ষে নিয়ে গিয়েছিল। তাকে দেখে স্পষ্ট মনে হচ্ছিল, যেন তাকেও নির্যাতিত করা হয়েছে। সে হাঁটতে পারছিল না, আরেকজন কয়েদি তাকে সাহায্য করছিলো।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি