ক্লাস চলছে কোয়ার্টারে
নেত্রকোনার সিভিল সার্জন
ডা. সুহেল মিয়া বলেন, নেত্রকোনা মেডিক্যাল কলেজের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকটি বিল্ডিং দিয়েছে, প্রয়োজনে আরো দেওয়া হবে। কোনো
সমস্যা হবে না
শ্যামলেন্দু পাল, নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনায় ২০১৯ সালে ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত কলেজের অবকাঠামো নির্মিত হয়নি। কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য নিজস্ব কোনো ভবন বা অবকাঠামো নির্মিত না হওয়ায় মেডিক্যাল কলেজ খুললে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রমে যেমন সমস্যা হবে তেমনি শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যাও প্রকট আকার ধারণ করবে।
কলেজের অধ্যক্ষ ডা. শ্যামল কুমার পাল বলেছেন, কলেজ ভবন এবং আবাসনের জন্য নেত্রকোনা সদর উপজেলার কাইলাটি ইউনিয়নের মৌজেবালি গ্রামে ইতিমধ্যে ৫০ একর ভূমি দেখা হয়েছে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পরিদর্শন টিম তা পরিদর্শন করে এখানে মেডিক্যাল কলেজ ভবন নির্মাণের জন্য সুপারিশও করেছে। এছাড়া সীমানা নির্ধারণ করে তা অধিগ্রহণের জন্য প্রাক্কলন তৈরি করা হচ্ছে। তবে এটা বাস্তবায়নে সময় লাগবে। এ মুহূর্তে হাসপাতালের ভেতর কলেজসংলগ্ন যে বড় জায়গা রয়েছে সেখানে একটি পাকা টিনশেড ঘর নির্মাণ করে দিলে সমস্যার আপাতত সমাধান হবে বলে জানান তিনি। তিনি আরো জানান, নেত্রকোনা মেডিক্যাল কলেজে প্রথম বর্ষের ক্লাস ২০১৯ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে ৫০ জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের পরিত্যক্ত ডক্টরস কোয়ার্টারে শুরু হয়। পরবর্তী দুই বছরে আরো ১০০ শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। বর্তমানে ১৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে মেডিক্যাল কলেজ। ছাত্রীদের জন্য হাসপাতালের ভেতর একটি কোয়ার্টারে থাকার ব্যবস্থা করা হলেও ছাত্রদের ক্যাম্পাসের বাইরে ভাড়া বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা হয়েছে। বর্তমানে করোনাজনিত কারণে কলেজ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ ছিল বলেই কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু চলতি বছরের শেষ দিকে শিক্ষার্থীদের প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষা শেষে পাশের পর তাদের দ্বিতীয় বর্ষে লেখাপড়ার ব্যাঘাত ঘটবে। তবে কলেজের অধ্যক্ষ ডা. শ্যামল কুমার পাল বলেন, নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল ২৫০ বেডের হাসাপাতালে রূপান্তরের কাজ শুরু হওয়ায় তারা আশাবাদী।
নেত্রকোনার সিভিল সার্জন ডা. সুহেল মিয়া বলেন, নেত্রকোনা মেডিক্যাল কলেজের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকটি বিল্ডিং দিয়েছে, প্রয়োজনে আরো দেওয়া হবে। কোনো সমস্যা হবে না।
জেলা প্রশাসক কাজী মো. আবদুর রহমান বলেন, মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণের জন্য নেত্রকোনা সদর উপজেলার মৌজেবালি গ্রামে ৫০ একর জমি দেখা হয়েছে। ঐ জমি মেডিক্যাল কলেজকে বন্দোবস্ত দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভূমি অধিগ্রহণ করে তা কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী খান খসরু এমপি বলেছেন, মেডিক্যাল কলেজের অবকাঠামো নির্মাণের জন্য সরকার সব রকম ব্যবস্থা নিয়েছে এবং অচিরেই কার্যক্রম শুরু হবে।
