নতুন ভ্যাট আইনে ব্যাপক সংশোধনের সুপারিশ

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২৩:২৮

Åপর্যালোচনা কমিটির সুপারিশ আজ যাচ্ছে অর্থমন্ত্রীর কাছে

Åভৌগোলিক বিবেচনায় নিবন্ধনের ব্যবস্থা রাখা, ভিন্ন ভিন্ন হারে ভ্যাট

নির্ধারণ, ব্যবসায়ী কর্তৃক মূল্য ঘোষণার অবাধ ছাড়ে রাশ টানা,

৩০ লাখ টাকা টার্নওভার করের অব্যাহতি বাতিল করা,

অনলাইন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত করার সুপারিশ   

রিয়াদ হোসেন

বহুল আলোচিত নতুন ভ্যাট আইনে (মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২) ব্যাপক সংশোধনের সুপারিশ করেছে আইনটি পর্যালোচনার লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিশেষজ্ঞ কমিটি। এক্ষেত্রে বেশকিছু ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের জন্য ছাড় দেওয়ার কথা বলা থাকলেও টার্নওভার কর অব্যাহতি বাতিল ও ব্যবসায়ী কর্তৃক মূল্য ঘোষণার ক্ষমতায় রাশ টানার সুপারিশ করা হয়েছে। আজ রবিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে এনবিআরের ভ্যাট বিভাগের বৈঠকের কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ওই বৈঠকে নতুন ভ্যাট আইনে এসব সংশোধনীর সুপারিশ তুলে ধরা হবে। এর পর মন্ত্রীর পরামর্শের ভিত্তিতে আইনটি বাস্তবায়নের রূপরেখা ঠিক করা হবে। এর আগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও বৈঠক করা হবে। আগামী জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন  বাস্তবায়নের বিষয়টি ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রীও জানিয়েছেন।

নতুন ভ্যাট আইন ব্যবসাবান্ধব করার লক্ষ্যে গত ১১ নভেম্বর এনবিআরের বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি ১৬ দফা বৈঠকের পর বেশকিছু সংশোধনীর সুপারিশ সম্বলিত ওই প্রতিবেদন ইতোমধ্যে এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে জমা দিয়েছে।

নতুন ভ্যাট আইনে কিছু পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে বহুল আলোচিত সঙ্কুচিত ভিত্তিমূল্য বাদ দিয়ে সব ক্ষেত্রেই ঢালাওভাবে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট হার বাস্তবায়নের কথা ছিল। এ নিয়ে বহু জল ঘোলা হওয়ার পর অবশেষে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, একাধিক হারেই ভ্যাট আদায় হবে। পর্যালোচনা কমিটিও একাধিক হারে ভ্যাট রাখার সুপারিশ করেছে। এছাড়া নতুন আইনে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের একাধিক স্থানে ব্যবসা হলেও কেন্দ্রীয়ভাবে একটি নিবন্ধন নম্বর (বিআইএন) নেওয়ার কথা ছিল। কমিটি এর বদলে ভৌগোলিক এলাকাভিত্তিক নিবন্ধন ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেছে। দেশের অর্থনীতিতে কোনো বিশেষ পরিস্থিতির উদ্ভব হলে সরকার কর্তৃক কর অব্যাহতি প্রদানের ক্ষমতা রাখা এবং রেয়াত গ্রহণের বিধানকে সুনির্দিষ্ট করার সুপারিশ করা হয়েছে। ব্যবসায়ী কর্তৃক পণ্য বা সেবার মূল্য ঘোষণা দেওয়ার অবাধ সুযোগের ক্ষেত্রে রাশ টানতে ইনপুট-আউটপুট কোএফিশিয়েন্ট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বরাবরে দাখিল বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করা হয়েছে। নতুন আইনে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার কর অব্যাহতির কথা রয়েছে। তবে কমিটি সঙ্কুচিত মূল্যভিত্তি চালু হলে এই অব্যাহতি না রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এর বাইরে আইনটিকে আরও সহজ করতে কিছু প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া আইনটি বাস্তবায়নের আগে নিবন্ধন, রিটার্ন দাখিল ও তা পরীক্ষা, রিফান্ড প্রদান, নিরীক্ষা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ট্রেজারি জমা ও আপিলসহ বিভিন্ন কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে অনলাইন কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিশ্চিত করা, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা, প্রশিক্ষণ ও ব্যাপক প্রচারণা চালানোর বিষয়েও কমিটি সুপারিশ করেছে।

কমিটির একজন সদস্য ইত্তেফাককে বলেন, এসব সংশোধনী আনা হলে আইনটি বাস্তবায়নযোগ্য হবে এবং আশা করছি এসব সংশোধনীর সুপারিশ গৃহীত হবে। এছাড়া আইনটি বাস্তবায়ন শুরু করার পর  কোথাও সমস্যা সৃষ্টি হলে তা আলোচনার মাধ্যমে তখন সমাধান করা যাবে। তিনি বলেন, যেভাবে সংশোধনের প্রস্তাব এসেছে, তা বিদ্যমান ১৯৯১ সালের আইন সংশোধন করেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব। তবে এত জল ঘোলা হওয়ার পর ফের ১৯৯১’র আইনে ফেরত যাওয়া বিব্রতকর হবে।

অবশ্য আইনটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে আইনটি সংশোধন করা হলেও তার আইনগত ভিত্তি ও এ লক্ষ্যে মাঠ প্রশাসনকে প্রস্তুত করে জুলাই থেকে কার্যকর করা সম্ভব কিনা তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী জুলাই থেকে আইনটি কার্যকর করতে হলে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করতে হবে এনবিআরকে। অন্যদিকে আইনটি বাস্তবায়ন শুরুর আগে ভোক্তা ও ব্যবসা পর্যায়ে এর প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণের দাবি ব্যবসায়ীদের। যদিও এখনো ওই দাবি অনুযায়ী কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া মূল্যায়নের কাজ শুরু করেনি এনবিআর।