স্পোর্টস ডেস্ক
কোপা আমেরিকা জয়ের পর গতকালই প্রথম দেশের মাটিতে খেলল আর্জেন্টিনা। দেশের মানুষের সামনে তাই ২৮ বছর পর শিরোপা জয়ের উদ্যাপনটা জমে পড়ে ছিল এতদিন। সেই উদ্যাপনের মাত্রাটা দ্বিগুণ হয়ে গেল লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিক ও রেকর্ডে।
গতকালের আগ পর্যন্ত লাতিন আমেরিকা দেশগুলোর মধ্যে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলের মালিক ছিলেন পেলে ৭৭। কিংবদন্তি এই ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারকে পেছনে ফেলে এবার সেই সিংহাসনে বসেছেন মেসি। বুয়েনস আইরেসে কাতার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের খেলায় বলিভিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকটির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে গোলের সংখ্যা ৭৯-তে পরিণত করেন এই ফরোয়ার্ড। এমন দিনে আর্জেন্টিনার জয়ের ব্যবধানটাও ৩-০।
১৪ মিনিটে দারুণ এক বাঁকানো গোলে শুরুটা করেন মেসি। বিরতির পর ৬৪ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের সঙ্গে ওয়ান-টুর মাধ্যমে ব্যবধানে দ্বিগুণ করেন তিনি। সঙ্গে ছাড়িয়ে যান পেলেকে। খেলার শেষের দুই মিনিট আগে বলিভিয়া গোলরক্ষকের ভুল কাজে লাগাতে ভুলেননি আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।
শিরোপার জয়ের আনন্দ দেশের মানুষের সঙ্গে ভাগাভাগি করার স্বপ্ন ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই দেখে আসছিলেন মেসি। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করার খুব কাছে এসেছেন অনেকবারই। কিন্তু প্রতিবারই ফেরেন বেদনার অশ্রুসিক্ত চোখে। অবশেষে গত জুলাইয়ে কোপা আমেরিকায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে নিন্দুকদের জবাব দেন মেসি। সেদিনের মতো মেসি কেঁদেছিলেন কালও।
ম্যাচ শেষে আবেগপ্রবণ অবস্থায় আর্জেন্টাইন অধিনায়ক বলেন, ‘আমি সত্যিই এটা উপভোগ করতে চেয়েছিলাম। এর জন্য লম্বা সময় অপেক্ষা করেছি, চেষ্টা করেছি এবং স্বপ্ন দেখেছি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর যেভাবে এটা হয়েছে তা অনন্য এক মুহূর্ত। শিরোপার উদ্যাপনের জন্য এখানে ছাড়া আর কোনো ভালো জায়গা নেই। আমার মা, ভাই সবাই ছিলেন গ্যালারি। তারা প্রচুর ভুগেছে এবং আজ তারা এখানে উদ্যাপন করছে। আমি খুবই খুশি।’
এদিকে আর্জেন্টিনার মতো গতকাল জয় পেয়েছে ব্রাজিল। পেরুকে ২-০ গোলে হারায় তারা। দুটো গোলেই অবদান রেখেছেন নেইমার। ১৪ মিনিটে এভেরটনকে অ্যাসিস্ট করে ও ৪০ মিনিটে স্কোরশিটে নিজেই নাম লেখান এই ফরোয়ার্ড। যার মাধ্যমে রোমারিও ও জিকোকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে ব্রাজিলের হয়ে সর্বোচ্চ ১২টি গোল করলেন নেইমার।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে লাতিন আমেরিকা
অঞ্চলের সর্বোচ্চ গোলদাতা
খেলোয়াড় ম্যাচ গোল
লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা) ১৫৩ ৭৯
পেলে (ব্রাজিল) ৯২ ৭৭
নেইমার (ব্রাজিল) ১১৩ ৬৯
লুইস সুয়ারেজ (উরুগুয়ে) ১২৩ ৬৪
