ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার হামলার ২০ বছর পরেও বিষাক্ত ধুলোতে অসুস্থ আমেরিকানরা

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:১১

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২০ বছর আজ(১১ সেপ্টেম্বর)। ২০০১ সালের এই দিনে আল-কায়েদার সঙ্গে জড়িত ১৯ জঙ্গি চারটি উড়োজাহাজ ছিনতাই করে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি জায়গায় আত্মঘাতী হামলা চালায়, যার ফলে প্রায় তিন হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। আহত হয় ছয় হাজারের অধিক মানুষ।।

এই হামলার পরে কেটে গেছে ২০ বছর। সম্প্রতি একটি গবেষণায় প্রকাশ করা হয়েছে, হামলার দুই দশক পরেও মানুষ অসুস্থ  হচ্ছে। আর তার সঙ্গে হামলার সম্পর্ক রয়েছে। ২০১২ সালে আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধ্বংসের সঙ্গে তারা ক্যান্সারের সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন ওয়ার্ল্ড সেন্টারের উদ্ধারকারী দলের সদস্য ও সেইসময় যাঁরা এই এলাকায় ছিলেন তাদের মধ্যে অনেকেই প্রেস্টেট ক্যান্সার, থাইরয়েড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন পরবর্তীকালে। 

9/11: 19 years on, trial is yet to begin - World News

তার পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তীকালে একটি স্বাস্থ্য কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল। যার নাম রাখা হয়েছিল ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার হেলথ প্রোগ্রাম। এই কর্মসূচির মাধ্যমে হামলার আক্রান্তদের বিনামূল্য চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান ও পরামর্শ দেওযার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। গবেষকরা দেখেছিলেন ওয়ার্ল্ড ট্রেড এক লক্ষেরও বেশি মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিল। ফেডারেল হেলথ প্রোগামে নথিভুক্ত তথ্য অনুযায়ী এই এলাকার সবথেকে বেশি মানুষ সাইনাসের সমস্যায় ভোগেন। অধিকাংশ মানুষই গ্যাস, গলা জ্বালা বা কাশিতে ভোগেন এখনও। তথ্য অনুযায়ী শতকরা ১৯ জন মানুষের মানসিক সমস্যা রয়েছে। আক্রান্তদের অনেকে এখনও সেই ভয়ঙ্কর অতীতের স্মৃতি বা আঘাত কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এছাড়াও হাপানি, শ্বাসকষ্টের মত সমস্যা অনেকেরই রয়েছে। 

একটি সূত্র বলছে হামলার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১ লক্ষ  উদ্ধারকর্মী গ্রাউন্ড জিরোর আশে-পাশে ডিউটি করেছেন। প্রায় ৪০ হাজার বাসিন্দা সেই সময় এই এলাকায় ছিলেন। তাদের মধ্যে এখনও যারা জীবিত রয়েছেন তারা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।কারণ হামলার সময় গোটা এলাকায় ধুলোয় ঢাকা পড়েছিল। যা প্রায় তিন মাসেরও বেশি সময় নিয়েছিল  বাতাসে মিশে যেতে। গবেষকরা মনে করেন সেই ধুলিকনা বিষাক্ত ছিল। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ডাস্ট প্লুম বা ডাব্লুউটিসি ডাস্ট, সিমেন্টের ধুলো বা কণা অ্যাসবেস্ট এবং এক শ্রেণীর রাসায়নিক পদার্থের মিশ্রণ। এটি বিপজ্জনক ও দীর্যস্থায়ী জৈব দুষণকারী। এর মধ্যে রয়েছে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী ডাইইক্সিন ও পলিয়ারোমেটিক হাইড্রোকার্বন যা জ্বালানী দহনের উপজাত।বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন সেই ধুলোতে সীসা, পারদের মত ভারী ধাতু রয়েছে যা মানব দেহ ও মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর।

ইত্তেফাক/এফএস