চট্টগ্রামে বখাটেদের উত্পাত বেড়েছে

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৫৯

চট্টগ্রামে বখাটেদের উত্পাত বেড়েই চলেছে। তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার, মাদকাসক্তি, অর্থনৈতিক দৈন্যদশা, বস্তির প্রসার ও অপরিকল্পিত নগরায়ন, যৌথ পরিবার ব্যবস্থা ভেঙে পড়া, রাজনৈতিক বড় ভাইদের ইন্ধনসহ নানা কারণে বখাটে সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক বখাটের কাছেই রয়েছে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র। নিজেকে জাহির করার হাতিয়ার হিসেবে তারা ব্যবহার করে মোটরসাইকেল। শহরে রেজিস্ট্রেশনবিহীন চলে অসংখ্য মোটরসাইকেল। পুলিশ মাঝে মাঝে কিছু অভিযান পরিচালনা করে। কয়েকদিন অবস্থা ভালো থাকলেও পরে আবার পরিস্থিতি আগের মতো হয়ে যায়।

নগরীতে প্রায় সবখানেই বখাটেদের উত্পাত। তবে বেশি চোখে পড়ে জিইসি মোড়, সেন্ট্রাল প্লাজা, স্যানমার শপিং মল, ওয়ার সিমেট্রি, চকবাজার, বহদ্দারহাট, নিউমার্কেট, আগ্রাবাদ কলোনি, লাকী প্লাজা ইত্যাদি এলাকায়। বখাটেদের মূল টার্গেট স্কুল, কলেজের ছাত্রী ও গার্মেন্টসের নারী কর্মীরা।

সমাজের বিভিন্ন পর্যায় থেকে আসা তরুণরা বখাটেপনা করে। তাদের কারণে মেয়েরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মেয়েরা প্রতিবাদ করতে পারে না। আবার প্রতিবাদ করলেও নানারকম হুমকি, ধামকি এমনকি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। পরিবারের মেয়েটি কোনো কাজে বাসার বাইরে গেলে ফিরে না আসা পর্যন্ত অভিভাবকরা উত্কণ্ঠার মধ্যে দিন কাটান।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, বখাটেদের মারমুখী আচরণের কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে এগিয়ে আসে না। অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক অপবাদের ভয়ে বাবা-মা এসব ঘটনা প্রকাশ করতে চান না। বখাটেদের দমনে জনসচতেনতার যেমন অভাব রয়েছে আবার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকেও খুব একটা ভূমিকা রাখতে দেখা যায় না। নগরীতে মেয়েদের বিভিন্ন স্কুলে জনসচেতনতা কার্যক্রম হাতে নিয়েছিল সিএমপি। তবে সেই কার্যক্রম এখন বন্ধ রয়েছে। বাওয়া স্কুলের এক ছাত্রী ইত্তেফাককে জানান, স্কুলে যাওয়া-আসার সময় প্রায়ই বখাটেদের খপ্পড়ে পড়তে হয়। তারা অশ্লীল কথা বলে। কাগজে মোবাইল নম্বর লিখে ছুঁড়ে দেয়। আমি ভয়ে কিছু বলতে পারি না। অনেক লোকজনের সামনেই বখাটেরা এসব করে। কিন্তু কেউ খুব একটা প্রতিবাদ করে না।