হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ
সপ্তাহের শেষ, তার উপর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলছে। সঙ্গে যোগ হয়েছে অনার্স তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা। গতকাল শনিবার এমন ব্যস্ততম একটি দিন নগরবাসীর কেটেছে তীব্র যানজটের মধ্য দিয়ে। নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বঙ্গবন্ধু সড়কে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দেখা গেছে তীব্র যানজট। মূল সড়কে যানজট থাকার কারণে শহরের পার্শ্ববর্তী সড়কগুলোতেও এর প্রভাব পড়েছে। এতে অফিসগামী, কর্মজীবী মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে।
গতকাল শনিবার সকালে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে দেখা যায়, সড়কজুড়েই ভয়ঙ্কর যানজট। যানজটের কবলে পড়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও তাদের স্বজনরা, অফিস বন্ধ থাকার পরও ছুটির দিনে গুরুত্বপূর্ণ কাজে বের হওয়া মানুষ। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও যানজট না কমায় কেউ কেউ বাস থেকে নেমে পায়ে হেঁটে রওনা দিয়েছেন গন্তব্যে। এদিকে শীতকাল হলেও দিনভর ছিল ভ্যাপসা গরম। ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগের মাত্রাও যায় বেড়ে।
জেলা আদালতে একটি মামলার হাজিরার জন্য বন্দর থেকে আগত রিয়াজুল বাসে ওঠেন কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে। কিন্তু শহরজুড়ে তীব্র যানজটের কারণে প্রায় এক ঘণ্টা পর পৌঁছান নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে। এদিকে হাজিরার সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। তাই বাস থেকে নেমে পড়েন রিয়াজুল। নেমে যানজট দেখে রিকশা নিতেও সাহস পাচ্ছেন না তিনি। উপায় না দেখে হেঁটেই গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। এদিকে যানজটের কবলে পড়ে দুই নম্বর গেটের সামনে থেকে রিকশা ছেড়ে দেন অনার্স তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষার্থী শিউলি আক্তার। পায়ে হেঁটেই সরকারি তোলারাম কলেজের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন তিনি। শিউলি বলেন, পরীক্ষা চলছে। স্যারের কাছে পড়তে যেতে হবে। রিকশায় বসে থাকলে পড়া হবে না। তাই হেঁটেই চলে যাচ্ছি। চাষাঢ়ায় দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট আলম খন্দকারের সঙ্গে কথা হয়। যানজটের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ছুটির দিনে মানুষ একটু বেশি বের হয়। নিজেদের ব্যক্তিগত কাজে বের হওয়া লোকজনের কারণেই এ যানজট। এ ছাড়া এখন এসএসসি পরীক্ষা চলছে। আর এমনি আজ একটু যানবাহনের সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। তাই আমাদের সামাল দিতে একটু কষ্ট হচ্ছে। তবে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। যান নিয়ন্ত্রণে আমরা সবাই মাঠে আছি। শিগগিরই যানজটের নিরসন হবে।
