মহিলা অঙ্গন প্রতিবেদক
কঠোর সাধনা আর প্রবল ইচ্ছাশক্তির সামনে কোনো প্রতিবন্ধকতাই টিকে না। কষ্ট আর অধ্যবসায় থাকলে যে কোনো কাজেই হওয়া যায় সফল। তেমনি অনলাইন ব্যবসায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন নারায়ণগঞ্জের তীর্থ খায়ের সিঁথি। অনলাইনভিত্তিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘নান্দীপাঠ’ ও ‘পুস্কনি’র প্রতিষ্ঠাতা তীর্থ খায়ের সিঁথি তার ভাই আরিফুল ইসলামের সহযোগিতায় হয়ে উঠেছেন সফল ব্যবসায়ী। সম্মিলিত চেষ্টায় তারা নিজেদের গড়ে তুলেছেন সফল উদ্যোক্তা।
চাকরিই সমাজের সবচেয়ে সম্মানজনক পেশা—এই প্রচলিত ধ্যানধারণা থেকে বের হয়ে আসতেই তারা ব্যবসার কথা চিন্তা করেন। সিঁথি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে ৩৩তম বিসিএসের নন ক্যাডার পদে নিয়োগপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা। তার ভাই আরিফুল ইসলাম সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিষয়ে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতকোত্তর শেষ করার পরেও চাকরির প্রত্যাশা না করে বোনকে নিয়ে শুরু করেন মানসম্মত পছন্দসই পোশাকের পেজ ‘নান্দীপাঠ’ এবং রেডি টু কুক আইটেমের পেজ ‘পুস্কনি’। সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী এবং একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় দুইটি পণ্যের এই ব্যবসায় আরিফুল ইসলাম আর তীর্থ খায়ের সিঁথি পুরোদমে প্রচার শুরু করেন।
তাদের এই যাত্রা খুব একটা সুখের ছিল না। তাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে বিভিন্ন রকম সামাজিক প্রতিবন্ধকতার। পারিবারিক বাধার সম্মুখীনও হতে হয়েছে। এমনকি পরিচিতজনদের কাছে মাছওয়ালা, মুরগিওয়ালার খেতাবও পেয়েছেন তারা। মাঝেমধ্যে মনোবল হারিয়ে ফেললেও একজন আরেক জনকে সাহস যুগিয়ে সব সময় বন্ধুর মতো পাশে থেকেছেন। দুই জনের অদম্য প্রচেষ্টাতেই হাজারো অনলাইন পেজের ভিড়ে অনলাইন জগতে পরিচিত ও শীর্ষ স্থানে আছে তাদের দুইটি অনলাইন পেজ। শুরুটা হয়েছিল ২০১৮ সালে পোশাকের পেইজ নান্দীপাঠ দিয়ে। যার মাধ্যমে ক্রেতা ঘরে বসেই সারা বাংলাদেশের যে কোনো স্থান থেকেই নিজের পছন্দসই ও মানসম্মত শাড়ি, থ্রিপিস, গজ কাপড়, ওড়না বেছে নিতে পারেন। ব্যবসার শুরুতে প্রথম বছরেই ৫ লাখ টাকার পণ্য বিক্রয় হয়। এভাবে প্রতি বছর একটু একটু করে এগিয়ে গিয়েছে নান্দীপাঠ। পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি আর।
এরপর ২০২০-এর শুরুর দিকে করোনা মহামারিতে যখন পুরো পৃথিবী স্থবির হয়ে গেল, তখন অনেকটা জনসাধারণের কথা চিন্তা করে, তাদের কাছে মানসম্মত রেডি কুক ফুড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে শুরু হয় নতুন উদ্যোগ, যার নাম দেওয়া হয় ‘পুস্কনি’। এখানে গ্রাহক তার চাহিদা অনুযায়ী সব রকমের মাছ এবং মাংস রান্নার উপযোগী অবস্থায় পান। নান্দীপাঠ এবং পুস্কনির ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে ডেলিভারি পর্যন্ত আট জন মানুষ এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে। তাই শুধু ব্যবসায়িক চিন্তাই নয়, আট জন মানুষের কর্মসংস্থান করতে পেরে তারা খুশি।
