ফারহানা ইয়াসমিন
দেশীয় ঐতিহ্য রক্ষার্থে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সিমার পরিবেশবান্ধব ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচেষ্টা। ছোটবেলা থেকেই ঘর, ঘরের আশপাশ ও পরিবেশকে সজ্জিত, গোছালো ও পরিপাটি রাখা এবং গাছ লাগানো খুব পছন্দের ছিল তার। বড় বোনের সাহায্য ও উত্সাহ নিয়ে ইনডোর প্ল্যান্ট শপের যাত্রা শুরু করেন সিমা। প্রথমে নিজেদের আত্মীয়স্বজনের মধ্যে তার ব্যবসার বিস্তৃতি ছিল। এরপরই যত দিন ততই যায়, তত তার ব্যবসায়ে সাফল্যের ধ্বনি বাজে। এখন তিনি অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনেও বিভিন্ন রকমের গাছ সরবরাহ করেন। বর্তমানে তার সংগ্রহে আছে দেশি-বিদেশি নানান রকমের গাছ কোন বৃক্ষটি কতটুকু আলো ও তাপমাত্রাযুক্ত পরিবেশে রাখতে হবে তা তিনি অনায়াসে বলতে পারেন। এটার পাশাপাশি তিনি দেশের ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য বিভিন্ন আসবাবপত্রের ওপর রিকশা পেইন্ট করেন।
তার সংগ্রহে রাখা আসবাবপত্রগুলো বেশির ভাগ বাঁশ, বেত ও মাটির তৈরি। প্রথম দিকে এরকম উদ্দেশ্যের কথা শুনে মায়ের সম্মতি ছিল না। একমাত্র বড় বোনের সাহায্যে ও উত্সাহে আজ তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা। পরিবার থেকে হাত খরচের জন্য এখন কোনো টাকাপয়সা তাকে নিতে হয় না। বরং নিজের সব ধরনের চাহিদা মিটিয়ে তিনি নিজেই এখন পরিবারকে বেশ মোটা অঙ্কের সাপোর্ট দিতে পারেন। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য দেখার জন্য জাদুঘরে যেতে হয়। এমন একটা দিন আসবে হয়তো জাদুঘর থেকেও দেশীয় সংস্কৃতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
এরকম দিন যেন না আসে তার জন্য ইনডোর প্ল্যান্ট শপের পাশাপাশি দেশীয় আসবাবপত্র দিয়ে ঘর, অফিস, বেলকুনি সজ্জিত করার চিন্তা করি। তিনি আরো জানিয়েছেন, তার বিভাগের শিক্ষকেরাও তার এই মহত্ উদ্যোগ দেখে খুশি হয়ে ঘর বা বেলকুনি সাজানোর জন্য তার তৈরিকৃত আসবাবপত্র ক্রয় করেন। সিমার ইচ্ছা পড়াশোনা শেষ করে ইটপাথরের রাজ্যে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহের জন্য এবং বিদেশি সংস্কৃতির জাঁতাকল থেকে দেশীয় সংস্কৃতিকে ধারণ করে রাখার জন্য একটি শো-রুম বানাতে চান। এছাড়া দেশি-বিদেশি উদ্ভিদ ও বাংলার ঐতিহ্যবাহী আসবাবপত্রে শো-রুমটিকে পরিপাটি করতেন চান।
