ক্যাম্পাস প্রতিবেদক
‘একসঙ্গে আর আড্ডায় মেতে ওঠা হবে না। ক্লাসের ফাঁকে বন্ধুদের সঙ্গে ঝগড়া-দুষ্টামি করা হবে না। খুনশুটিও আর জমবে না। বুকের ভেতরে যেন খাঁখাঁ করছে। বুকে চাপা কষ্ট আর চোখে জল নিয়ে সবার থেকে বিদায় নিয়ে ফিরছি। কোনো অভিযোগ ছাড়াই নিষ্পাপ বেদনার ভারে ক্লান্ত মনে বিদায় নিল সবাই।’ ২০১৬ সালের নভেম্বরে যার পথচলা শুরু। ২০২০ সালে এ যাত্রার ইতি ঘটে। করোনা মহামারির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ দিন একসঙ্গে কাটানো আর সম্ভব হয়নি তাদের। সম্প্রতি ২৫ আগস্ট সেই আমেজে মেতে উঠেছিলেন এই শিক্ষার্থীরা। বলছিলাম, সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) রাজনীতি ও প্রশাসন বিভাগের ২১ ব্যাচের ২১ শিক্ষার্থীর কথা।
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐ শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘জীবনের সোনালি সময়ের ইতি এমন ধূসর হবে, কেউ কখনো কল্পনাও করেনি। কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় আমাদের। তবে ক্যাম্পাস পাড়ায় বসবাসকারীরা কি সীমাবদ্ধতাকে তোয়াক্কা করে? শিক্ষার্থীরা স্বাধীন! বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে স্মৃতিময় করতে শেষ দিন উদ্যাপনে আনা হয়েছে ভিন্নতা।’
প্রত্যেক শিক্ষার্থী দেখেছিল একত্রে কাটানো সোনালি দিনগুলোর শেষ সূর্যাস্ত। যার গোধূলির লালিমা মোটেও কাউকে স্পর্শ করে নাই। বরং অস্পষ্ট চোখে ঘোলাটেই লেগেছিল। সেই নিয়তির খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতেই যেন এক আকাশ ভরা পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল একটি দিন যাপন করেন তারা। আবারও ক্যাম্পাসে ফেরা। শেষ বারের মতো উত্সবে বন্ধুদের ফিরে পাওয়া। বিদায় এক কষ্টের অনুভূতির নাম। বিদায় জ্ঞানপিপাসুদের নতুন জীবন নতুন উদ্যমে কাজে ফেরার শক্তি। এই বিদায় অনুভূতির ঘ্রাণে ভিন্নতা মাখিয়ে পুরো স্বাদ গ্রহণ অমৃত পানের সমতুল্যই বটে। একদল প্রাণ যেখানে শেষবারের মতো একত্রিত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে সুখ-দুঃখের সাগরে। দিনের শুরুতে একরাশ হাসি নিয়ে মেলবন্ধন হয়ে আড্ডায় মেতে ওঠা। সহপাঠীদের সঙ্গে ছবি তুলে দেওয়ালে টাঙিয়ে রাখা। একসঙ্গে সবাই আনন্দে উত্ফুল্লে থাকা। খাবারে যেন সেদিন ছিল আলাদা স্বাদ। বেদনার অংশ শুরু হয় দিনের শেষ ভাগে। যখন সবাই নিজ নিজ বাসায় ফিরে যাবার প্রস্তুতি নেয়।
এই বিশেষ দিনের গল্প জানতে কথা হয় রাকিব হাসানের সঙ্গে। তিনি বললেন, ‘চার বছর একসঙ্গে কাটানো। গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে কর্মজীবনের সূচনা হয়। কাছের বন্ধুদের সঙ্গেও আর রোজ দেখা হবে না। সবাই আলাদা হয়ে যাব। ভাবতে পারিনি এত তাড়াতাড়ি এমন দিনের মুখোমুখি হতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘গোটা দিন একসঙ্গে কেটেছে। বুঝতেই পারিনি কীভাবে দিনটি ফুরিয়ে গেল। দিন শেষে মনে হয়েছে, চার বছর যেন চোখের পলকেই শেষ হয়ে গেছে। তখনই মনে পড়ে যায় ফেলে আসা সোনালি সময়ের স্মৃতিগুলো।’ আরেক ছাত্র মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার কোনো শেষ নেই। কিন্তু স্কুল জীবন, কলেজ জীবন ও ইউনিভার্সিটি জীবনের শেষ আছে। দেখতে দেখতে এই অনাবিল সুখের জীবনের পরিসমাপ্তি হয়ে গেল।’
