করোনাকালে নতুন কিছু শিখল যারা

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:১১

  মো. হাবিবুর রহমান

 

মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জীবন-জীবিকার প্রশ্নে দেশের অন্যসব প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হলেও একটানা প্রায় ১৫ মাস এর অধিক সময় ধরে বন্ধ রয়েছে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান। ঘরে বসে অলস সময় পার করছে শিক্ষার্থীরা। একদিকে যেমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধে অনেক শিক্ষার্থীর মানসিক অস্থিরতা ও অবসাদ দেখা দিচ্ছে, আবার অনেক শিক্ষার্থী অফুরন্ত এ সময়টাকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে—তেমনি কিছু শিক্ষার্থীর কথা জানবো আজকের গল্পে।

 

শাহাদাত সেতু

কাজ :গ্রাফিক্স ডিজাইনার

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

বর্তমান যুগকে বলা হয় তথ্য ও প্রযুক্তির যুগ। জীবনের পরতে পরতে প্রযুক্তির ছোঁয়া আমাদের লেগে আছে। তাই এই প্রযুক্তির সহায়তায় ঘরে বসেই দেশ-বিদেশের কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। এরকমই কাজ শিখেছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের আরেক শিক্ষার্থী শাহাদাত সেতু। সে করোনাকালের এই অফুরন্ত সময়কে কাজে লাগিয়ে হয়ে উঠেছেন একজন দক্ষ গ্রাফিক্স ডিজাইনার। সেতু বলেন, আমরা সকলেই কমবেশি ব্যস্ত জীবনযাপন করি। করোনার এই মহামারির কারণে এখন আমরা সকলেই গৃহবন্দি। হয়তো-বা এমন দীর্ঘ অবসর আর কখনো মিলবে না। এই জন্য আমি চেয়েছি এই সময়টাকে পুরোপুরিভাবে কাজে লাগাতে। একেক জনের চিন্তা ভাবনা একেক রকম। তাই এই অবসর কাটানোর ধরনটাও একেক জনের একেক রকম। তবে আমি বেছে নিয়েছিলাম নতুন কিছু শেখার এবং উপার্জনের স্মার্ট মাধ্যম ফ্রিল্যান্সিংকে। এখন পর্যন্ত একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে সফল ভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

 

ফারহানা আক্তার ফারা

কাজ :বিভিন্ন হাতের কাজের জিনিস তৈরি

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ফারহানা আক্তার ফারা হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের লেভেল-৩ সে-১-এর শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের এ সময়টাকে কাজে লাগিয়ে শিখেছেন বেশ কিছু হাতের কাজ। হাতের কাজ শেখার আগ্রহ অনেক আগে থাকলেও পুরো মনোযোগে কাজ করার অবসর সময় হয়ে উঠছিল না। তাই করোনায় ছুটি পেয়ে বাড়িতে বসে এই হাতের কাজগুলো শিখে সে।  ফারহানা বলেন, অনলাইনে কুশির কাটার ব্যাগ দেখি। পরে নিজেই তৈরি করি, সেদিন থেকেই ইউটিউবে ভিডিও দেখা শুরু করি এবং এক বসাতেই শিখে উঠি। পরে দেখলাম ভালোই পারি এবং কুশির তৈরি জিনিসগুলো দেখতে খুবই সুন্দর হয়। তাই অনলাইনে বিজনেস করার চিন্তা এলো। একদিন একটা অনলাইন বিজনেস প্ল্যাটফরমে পোস্ট করলাম এবং অনেকের কাছে কাজের প্রশংসাও পেয়েছি।

 

মো. আজাদ আলী

কাজ :ইউটিউবার

আবদুলপুর সরকারি কলেজ, নাটোর

বলা হয়ে থাকে বর্তমান প্রযুক্তির কল্যাণে সকল সমস্যার সমাধান এখন হাতের মুঠোয়। ইউটিউব, গুগলে সার্চ করলেই পাওয়া যাচ্ছে দৈনন্দিন জীবনের যাবতীয় সমস্যার সমাধান। ইউটিউবে ব্লগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য  খেলাধুলা নিয়ে কনটেন্ট বানিয়ে অনেকে হয়ে উঠছেন দক্ষ ইউটিউবার। তেমনি করোনাকালীন সময়টাকে কাজে লাগিয়ে ইউটিউবার হওয়ার স্বপ্নটাকে লক্ষ্যের কাছাকাছি নিয়ে গেছেন নাটোরের আবদুলপুর সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মো. আজাদ আলী। কাজ করছেন ইউটিউবে দৈনন্দিন স্বাস্থ্যসচেতনতা বিষয়ক টিপস নিয়ে। আজাদ বলেন, আমি অনার্স চতুর্থ বর্ষের একজন ছাত্র। ইউটিউবিংয়ে শখ ছিল কিন্তু সময় সুযোগ সেভাবে হয়ে উঠছিল না। করোনার বন্ধের প্রথম দিকে কিছুটা হতাশ হয়ে পড়েছিলাম কিন্তু পরে ভাবি কিছু একটা শুরু করতে হবে আমাকে, আর তাই শুরু করি ইউটিউব প্ল্যাটফরমে কিছু একটা করা যায় কি না। বন্ধু ও অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে স্বাস্থ্যসেবার টিপস নিয়ে কন্টেন্ট বানাতে শুরু করি। আমি এখনো বিগেনার। ইচ্ছে আছে প্ল্যাটফরমটাকে আরো বড় করার।