‘আমরা কাকে, কতটুক পৃষ্ঠপোষকতা করব সেটা আগে ঠিক করতে হবে’

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:১১

 

চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ রিয়েলিটি শোয়ের মাধ্যমে সংগীত ক্যারিয়ার শুরু করা সোমনুর মনির কোনাল নিয়মিতই গান উপহার দিচ্ছেন দর্শক-শ্রোতাদের। নিজের মৌলিক গানের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের গানেও ধরে রেখেছেন জনপ্রিয়তা। সাম্প্রতিক ব্যস্ততাসহ ইন্ডাস্ট্রির নানা বিষয়ে তিনি কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন

এ এম রুবেল

বর্তমান কাজের ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাই—

সম্প্রতি বাপ্পা মজুমদারের একটি অ্যালবামের গানে কণ্ঠ দিলাম। সবে তো সব কিছু খুলে দেওয়া হয়েছে। আশা করছি সামনে রেকর্ডিং, কনসার্ট, প্লেব্যাকে সরব হতে পারব।

সামনে কোন চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করছেন?

বেশ কিছুদিন নতুন কোনো ছবির গানে কণ্ঠ দিইনি। তবে বেশ কয়েকটি ছবিতে গান করার কথা রয়েছে। শিগগিরই হয়তো গানগুলো রেকর্ড করা হবে।

অ্যালবাম করার চর্চা থেকে শিল্পীরা দূরে সরে গেছেন বলা চলে। সেই জায়গায় আপনার অ্যালবামের গানে কণ্ঠ দেওয়ার বিশেষ কোনো কারণ আছে কী?

আসলে অ্যালবামটি বাপ্পা দা করছেন। এখন অ্যালবাম হচ্ছে না, এটা খুবই দুঃখজনক। তবে এই সময়ে এসে এ ধরনের একটি কাজকে সাধুবাদ না জানিয়ে পারছি না। এটা নিঃসন্দেহে একটি সাহসী পদক্ষেপ।

একটি গানে কয়েক লাখ টাকা খরচ করে মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে গানের স্বকীয়তা কতটা বজায় থাকছে?

গানের প্রয়োজনে একটি মিউজিক ভিডিও আমরা তৈরি করি। মিউজিক ভিডিও গানের প্রচারের একটা অংশ। অনেক আগে থেকেই মিউজিক ভিডিওর চল থাকলেও এখনকার সময়ে গানের সঙ্গে একটি ভিডিও গুরুত্বপূর্ণ। তবে গানের চেয়ে বা গানের কোয়ালিটির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ না। আমাদের মনে রাখতে হবে মিউজিক ভিডিওটি যেন গানের মান নষ্ট না করে। কারণ এখন আমরা বিশ্ববাজারের সঙ্গে লড়াই করছি। এখনকার গানগুলো কম সময়ে হারিয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে কোনটাকে দায়ী করবেন?

যে গান হারিয়ে যাচ্ছে সেই গান শ্রোতার মনে ঢুকতে পারছে না। যদিও আমি এটা বিচার করার কেউ না। এটা বিচার করবে দর্শক-শ্রোতারা। তাদের ভালো-খারাপ গানকে আলাদা করতে হবে।

ভিউ বাণিজ্যের কারণে কাব্য মূল্যহীন গানও ভাইরাল বনে যাচ্ছে। এতে বাইরের দেশে আমাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে ভুল বার্তা পৌঁছাচ্ছে না?

ভাইরাল একটি হুজুগ চর্চা। আমরা আসলে কাকে, কতটুক পৃষ্ঠপোষকতা করব সেটা আগে ঠিক করতে হবে। আমরা যে কন্টেন্টগুলোকে ভাইরাল করছি সেটা বাইরের দেশে আমাদের ইমেজ কতটা নষ্ট করছে এটা ভাবতে হবে। এ ধরনের কন্টেন্ট দেখে তারা মনে করছে এরাই আমাদের রিপ্রেজেন্ট করছে! এতে আমাদের ভাবমূর্তি কিন্তু ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাই দর্শদের বলবো, মানসম্মত গান গাওয়া যেমন শিল্পীর দায়িত্ব তেমনি খারাপ কন্টেন্ট ভাইরাল না করাও তাদের দায়িত্ব।

অডিও কোম্পানির কাছে না গিয়ে শিল্পীরা এককভাবে নিজস্ব চ্যানেলে গান রিলিজ দিচ্ছে। এতে গানটি মানুষের কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছে কি-না?

একদিক দিয়ে এটাকে আমি সমর্থন করি। বাইরের দেশের শিল্পীদের কিন্তু নিজস্ব লেভেল আছে। সেই জায়গা আমাদের শিল্পীরা নিজের লেভেল তৈরি করলে তো ভালো। এতে লাভ-ক্ষতি নিজেরই থাকে। নিজের কাজ, চিন্তাধারা অন্যকে দিলাম, তিনি সেটা থেকে মুনাফা পেলেন, এতে শিল্পীর কী থাকলো! তবে হ্যাঁ, লেভেল কোম্পানি থেকে গান রিলিজ হলে প্রচার বেশি হয়।

শিল্পীদের রয়ালিটিসহ নানা অসংগতি রোধে বেশ কয়েকটি সংগঠন তৈরি হয়েছে। আপনিও একটি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। অসংগতি সমাধানে সম্ভাবনা কতটুকু দেখতে পাচ্ছেন?

কারোনাকালে তিনটি বড় সংগঠন আমাদের হয়েছে। আমাদের যে দাবিগুলো ছিল তার অনেকগুলোই কিন্তু আমরা সূরাহা করতে পেরেছি। এছাড়া চলচ্চিত্রের গানের রয়ালিটি, পুরনো অ্যালবামের গানের রয়ালিটিসহ বেশকিছু সমস্যার সমাধান এরইমধ্যে হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই সবকিছু একটা নিয়মনীতির ভেতর চলে আসবে।