ইত্তেফাক ডেস্ক
ভারতে ভেজাল মদের জেরে ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। দেশটির উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখন্ডে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। উত্তরপ্রদেশে গত তিন দিনে ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর উত্তরাখন্ডে মারা গেছে ২৮ জন।
ভেজাল মদ খেলে উত্তরপ্রদেশের সাহরানপুর জেলাতেই ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। কুশিনগরে প্রাণ গেছে ৮ জনের। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ২৪ জন। এই ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে ৪০০ লিটার ভেজাল মদ। রাজ্য প্রশাসনের দাবি, ভেজাল মদ তৈরি এবং সেগুলোর বিতরণের দায়িত্বে নিযুক্ত ছিল আটককৃতরা। গ্যাংস্টার ও জাতীয় নিরাপত্তা আইনে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ২০১১ সাল থেকে উত্তরপ্রদেশে ভেজাল মদ খেয়ে মৃত্যুর মোট ৮টি ঘটনা ঘটেছে। ৪টিই ঘটেছে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের আমলে। সব মিলিয়ে প্রায় ২০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তবে এবারের ঘটনার দায় প্রতিবেশি রাজ্য উত্তরাখণ্ডের ঘাড়ে চাপিয়েছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। তাদের দাবি, সমপ্রতি উত্তরাখণ্ডে একটি শ্রাদ্ধবাড়িতে নিমন্ত্রণে গিয়েছিলেন সাহরানপুরের কিছু বাসিন্দা। সেখান থেকে প্রচুর পরিমাণে ভেজাল মদ নিয়ে রাজ্যে ফেরে এক ব্যক্তি। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তা বিক্রি করে। তা খেয়েই অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেকে। ক্ষমতায় আসার পর বিহারে মদ নিষিদ্ধ করেন নীতিশ কুমার। কিন্তু চোরাইপথে সেখান থেকেই কুশিনগরে ভেজাল মদ ঢুকেছে বলে দাবি যোগী সরকারের।
চিকিত্সায় দেরি হওয়াতেও অনেকের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি সাহরানপুরের জেলা প্রশাসক একে পান্ডের। তিনি বলেন, ঠিক সময়ে চিকিত্সার বন্দোবস্ত করা যায়নি। তার জেরেই মৃত্যু হয় অনেকের। কেবল উত্তরপ্রদেশই নয়, উত্তরাখণ্ডের রুরকিতেও ভেজাল মদ খেয়ে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা এএনআই। মৃতদের পরিবারকে ২ লাখ রূপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র সিংহ রাওয়াত। আহতদের মাথাপিছু ৫০ লাখ রূপি করে দেওয়া হবে। - আনন্দবাজার পত্রিকা
