চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণ ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। হাসপাতালে করোনা রোগীর চাপ আগের মতো নেই। ফলে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এসেছে। করোনার কারণে চমেক হাসপাতালে রোগী ভর্তি সীমিত করেছিল। এখন সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে বহির্বিভাগে চিকিত্সাসেবা চালু করা হয়েছে। অন্তঃবিভাগে রোগী ভর্তির চিন্তাভাবনা চলছে। তবে চিকিত্সা খরচ কম হওয়ায় সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ বেডে করোনা রোগীর চাপ কমেনি। বেসরকারি হাসপাতালগুলো করোনা ওয়ার্ড সরিয়ে নিয়েছে।
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল শুরু থেকে করোনা রোগীর চিকিত্সার জন্য ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালে আইসিইউ বেড সংযোজনসহ চিকিত্সাসেবায় নানা সুবিধা যুক্ত করা হয়। করোনার প্রকোপ কমে যাওয়ায় এই হাসপাতালে রোগীর চাপও অনেক কমে গেছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, গতকাল রবিবার আইসোলেশনে ৪৭ জন করোনা রোগী ভর্তি আছে। তবে আইসিইউতে কোনো বেড খালি নেই। করোনার প্রকোপ কমে যাওয়ায় গত সপ্তাহের শেষ দিকে বহির্বিভাগে চিকিত্সাসেবা চালু করা হয়েছে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিত্সক ডা. তানজিমুল ইসলাম বলেন, আমরা বহির্বিভাগে চিকিত্সাসেবা চালু করেছি। আরো দুই সপ্তাহ দেখে অন্তঃবিভাগে সাধারণ রোগী ভর্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আইসোলেশনে করোনা রোগী কমলেও আইসিইউতে বেড খালি নেই। আইসিইউ ও এইচডিইউর ২৪টি বেডে রোগী ভর্তি রয়েছে। সরকারি হওয়ায় বিভিন্ন স্থান থেকে জটিল করোনা রোগী জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে ভিড় করছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কোভিড রোগী বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি হাসপাতালে অনেকেই কোভিডের জন্য আলাদা ইউনিট চালু করে। আইসিইউ বেডও বাড়িয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সম্প্রতি শনাক্ত কমে যাওয়ায় বেসরকারি হাসপাতালে কোভিড রোগীর চাপ কমে গেছে। ফলে রোগী না থাকায় তারা আলাদাভাবে করা কোভিড ইউনিট বন্ধ করে দিয়েছে।
আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে সব সময় প্রায় ২০০ জনের মতো করোনা রোগী ভর্তি থাকে। এখন এই হাসপাতালে করোনা রোগী ৬০ জনে নেমে এসেছে। হাসপাতালের করোনা বিভাগের ইনচার্জ ডা. মো. ফাহিম জানান, নগরীর বেসরকারি অন্য হাসপাতালের চেয়ে আমাদের এখানে চিকিত্সা খরচ অনেকটা সহনীয় পর্যায়ে আছে। তাই আইসিইউ ও এইচডিইউর ২৮টি বেডের মধ্যে কোনো বেড খালি নেই। আর সাধারণ বেডে করোনা রোগী প্রায় ৩২ জনের মতো ভর্তি আছে।
চমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আফতাবুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় এখন সব ধরনের রোগী ভর্তি নেওয়া হচ্ছে। আগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
