আঙুলের ছাপ চুরি

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৩৮

কোনো নাগরিক মোবাইল ফোনের একটি সিম নিবন্ধন করতে গিয়ে নিজের অজান্তেই অন্যের অপরাধ সংঘটন সহজ করে দিচ্ছেন কি না তা তিনি নিজেই জানেন না। জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে একাধিক সিম ব্যবহারের বিধান চালুর সময়ই এ প্রশ্ন উঠেছিল।

কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (CTTC) সাইবার অপরাধ তদন্ত বিভাগের অনুসন্ধান সূত্রে দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধনকারী নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে একটি মাত্র সিম ব্যবহার করলেও তার অজান্তেই একই এনআইডি দিয়ে সক্রিয় রয়েছে একাধিক মোবাইল সিম। এসব সিম ব্যবহার করে সংঘটিত হচ্ছে নানা প্রতারণা, হুমকি ও মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণা কিংবা অর্থ পাচারের মতো অঘটন। বর্তমানে বাংলাদেশের অনেক জায়গায় রেজিস্ট্রেশন করানো সিম পাওয়া যাচ্ছে। আমরা মনে করি, এভাবে ছোট অসতর্কতায় বড় অপরাধের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। এতে করে নিছক ব্যক্তির হয়রানি ও বিড়ম্বনাই নয়, রাষ্ট্র ও সমাজের জন্যও সৃষ্টি হচ্ছে সামষ্টিক ঝুঁকি।

বিশেষত মোবাইল ব্যাংকিংসহ আর্থিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন প্রক্রিয়া যখন নাগরিকের ‘হাতের মুঠোয়’ চলে আসছে, তখন এ ধরনের ঝুঁকি সার্বিক ডিজিটালাইজেশনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে বাধ্য। খানিকটা বিলম্বে হলেও বিষয়টি যে সামনে এসেছে সেজন্য CTTC সাধুবাদ পেতে পারে। এখন মনোযোগ দিতে হবে এই অপরাধ নিয়ন্ত্রণের দিকে। এক্ষেত্রে প্রথমেই নজর দিতে হবে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সুরক্ষিত রাখার দিকে। সেক্ষেত্রে মোবাইল কোম্পানিগুলোকেও স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। দুর্ভাগ্যের বিষয়, মোবাইল ফোন বা সিমের মাধ্যমে প্রতারণা জালিয়াতির মাধ্যম হিসেবে অজ্ঞাতসারে ব্যবহূত হয়ে থাকে প্রান্তিক মানুষেরাই। বিশ্বে যেখানে বেশির ভাগ সাইবার অপরাধ সংঘটিত হয় প্রতিরোধ ব্যবস্থার বিচ্যুতির কারণে, সেখানে বাংলাদেশে সাইবার অপরাধের মূল কারণ জন অসচেতনতা। এর অর্থ এই নয় যে, বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্ভেদ্য।

গত অর্ধযুগে দেশের বিভিন্ন থানায় কমবেশি চার হাজার সাইবার অপরাধের অভিযোগও এ ধরনের অপরাধের ব্যাপকতা ও বিস্তৃতি প্রমাণ করে। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাইবার অপরাধ দমনে আগের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয় ও দক্ষ। একইসঙ্গে জনসচেতনতা বাড়ানো না গেলে অসচেতনতার কারণে সংঘটিত অপরাধ দমন করে বেশিদূর অগ্রসর হওয়া যাবে না। কে না জানে যে, রোগের প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। সেই কাজটি সিম নিবন্ধন জালিয়াতি বন্ধের মধ্য দিয়েই সূচিত হোক। যে জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সিম নিবন্ধনে জালিয়াতি চলে, সেটা আরো সুরক্ষিত করা যায় কীভাবে, ভাবতে হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

তারেক আল মুনতাছির

ওমরগণি এম.ই.এস কলেজ, চট্টগ্রাম