সোনারগাঁওয়ে ব্রহ্মপুত্রে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:১৯

সোনারগাঁওয়ের জামপুরে ব্রহ্মপুত্র নদে অবৈধভাবে ড্রেজিংয়ের নাম করে মাত্রাতিরিক্ত বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে স্থানীয় নামধারী আওয়ামী লীগ নেতারা সেনাবাহিনীর নাম ভাঙিয়ে অবৈধভাবে বালু  উত্তোলন করায় এলাকার প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষকের ফসলি জমি ভেঙে নদে চলে যাচ্ছে। কেউ অবৈধ এ বালু কাটার প্রতিবাদ করলে তাদের মারধর ও হত্যার হুমকি দেয় সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে এলাকাবাসী জরুরি ভিত্তিতে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। অন্যথায় এলাকাবাসী কঠোর আন্দোলন কর্মসূচির ঘোষণা দেবে বলে জানায়। জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নামধারী নেতাকর্মীসহ ১৮ জনের একটি সিন্ডিকেট এ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত। তারা জামপুর ও নোয়াগাঁও ইউনিয়নের মিরেরবাগ, বশিরগাঁও, ঝালুকান্দি, মুকিমপুর, গোবিন্দপুর, চরপাড়া, মহজমপুর, বুরুমদী গ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের কোল ঘেঁষে মাত্রাতিরিক্ত বালু  উত্তোলন করছে। ফলে প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষকের ফসলি জমি ভেঙে নদে চলে যাচ্ছে।

কৃষকরা জানায়, গত কয়েক দিন ধরে রাতেদিনে ব্রহ্মপুত্র নদে সেনাবাহিনীর দেওয়া সীমানা অতিক্রম করে একই স্থান থেকে বালু উত্তোলন করে আসছে ঐ সিন্ডিকেট। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এ সিন্ডিকেট সেনাবাহিনীর নাম করে বিভিন্ন কৃষককে মামলা ও হামলার হুমকি দিয়ে আসছে। ড্রেজার বসানোর সময় মহজমপুর কাজীপাড়া এলাকার এক স্কুলছাত্র এর যৌক্তিকতা জানতে চাইলে  তাকে মারধর করে সংশ্লিষ্টরা ।  এতে এলাকার কৃষক নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। তাই কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। তবে এলাকাবাসী জরুরিভিত্তিতে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেছে।

মিরেরবাগ গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন প্রধান ও লতিফ ভূঁইয়া জানান, ‘সেনাবাহিনী ১০ থেকে ১৫ ফুট বালু উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছে। এ সিন্ডিকেট নির্দিষ্ট সীমানা অতিক্রম করে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ ফুট গভীর করে বালু উত্তোলন করায় কৃষি জমি ভেঙে যাচ্ছে। কৃষি জমি রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি জরুরি, নতুবা কঠোর আন্দোলনে নামবে এলাকাবাসী।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মুকিমপুর গ্রামের দুই বাসিন্দা জানান, বালু কাটার সঙ্গে জড়িতরা এলাকার ভূমিদস্যু, মাদক ব্যবসায়ী, বখাটে, কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকে। তারা এলাকা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়। তাই কেউ বালু কাটার প্রতিবাদ করতে পারে না। ড্রেজার দিয়ে বালু কাটার সময় এলাকায় বহিরাগতদের আনাগোনা দেখা যায়। তারা এলাকায় মাদক সেবন, জুয়ার আসর বসিয়ে আনন্দ-উল্লাস করে। ঐ  সময় কেউ সেখানে গিয়ে বালু কাটার প্রতিবাদ করলে সেনাবাহিনীর কথা বলে তারা মামলা হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আতিকুল ইসলাম জানান, ‘ব্রহ্মপুত্র নদে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে কৃষকের ক্ষতি হবে, এমন কাজ করতে দেওয়া যাবে না। এ বিষয়ে আগেও উপজেলা পরিষদের মিটিংয়ে কথা বলেছি। বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেওয়া হবে।’