৪০০ বছরের পুরনো উৎসবে পিটিয়ে মারা হয় ডলফিন

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৪:৪৭

উত্তর অটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপপুঞ্জ ফ্যারো। স্বশাসিত অঞ্চলটি বর্তমানে ডেনমার্কের অধীনে আছে। দ্বীপপুঞ্জটিতে ৪০০ বছরের এক পুরনো উৎসব পালন হয়। সেখানে পিটিয়ে মারা হয় ডলফিন। এক প্রতিবেদনে এই উৎসব সম্পর্কে জানিয়েছে জার্মান গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলে।

জানা যায়, গত রবিবার প্রায় ১ হাজার ৪০০ এর অধিক ডলফিনকে হত্যা করা হয়েছে। এই শিকার উৎসবের নাম হলো গ্রিন্ডাড্র্যাপ। কিন্তু রবিবারের উৎসবে এত ডলফিন মারা হয়েছে যে, এই দ্বীপের ভাবমূর্তিতে প্রবল আঘাত লেগেছে।

ঘটনার পর পরিবেশ বিজ্ঞানী, সমুদ্র ও ডলফিনের জীবনচক্র নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা এই নির্বিচারে প্রাণীহত্যার তীব্র নিন্দা করেছেন। অবিলম্বে তারা এই প্রথা বন্ধের দাবি তুলেছেন।

পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংস্থা সি শেফার্ড ফেসবুকে এক পোস্ট করে জানিয়েছে, ১ হাজার ৪২৮টি ডলফিন মারা হয়েছে। এই ডলফিনগুলোর একপাশ সাদা। এই দ্বীপপুঞ্জে এর আগে কখনো এত ডলফিন হত্যা করা হয়নি।

এছাড়া সুইৎজারল্যান্ড ভিত্তিক সংস্থা ওশেন কেয়ার জানিয়েছে, যেভাবে প্রাণী হত্যা করা হয়েছে তা মানা যায় না। সব সীমারেখা তারা পার করেছে।

জানা যায়, এই দ্বীপপুঞ্জের মানুষ প্রতিবছর ১ হাজারের মতো সামুদ্রিক প্রাণী মারেন। গতবার তারা ৩৫টি ডলফিন মেরেছিলেন।

গ্রিন্ডাড্র্যাপ নামে এই শিকার উৎসবে বহু মানুষ অংশ নেন। বিভিন্ন গোষ্ঠী নৌকায় করে ডলফিন ও পাইলট তিমিকে তাড়িয়ে তীরের দিকে নিয়ে আসে। এরকমই একটি সংস্থার সাবেক চেয়ারম্যান বলেছেন, এই বছর বেশি প্রাণীহত্যা হয়েছে। তাই তিনি নিজেকে এর থেকে সরিয়ে নিয়েছেন।

পাইলট তিমি বা একদিকে সাদা রঙের ডলফিন বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত নয়। তা সত্ত্বেও এত প্রাণী কেন মারা হবে, সেই প্রশ্ন তুলছে সবাই।

ইত্তেফাক/টিআর