কথা বলতে চাই, কিন্তু শোনার কেউ নেই—এমন বাক্য কেবল প্রবীণদের বেলায়ই খাটে। একটা বয়সে পৌঁছালেই আমরা আমাদের বাবা-মা কিংবা যে কাউকে প্রবীণদের কাতারে রেখে দেই। সেখান থেকেই তাঁদের ভাবনায় জাগে তাঁরা আসলেই বয়সের পালায় নুয়ে পড়েছেন। আমাদের সমাজে প্রবীণরা প্রায়শই অবহেলিত। তারা একাকিত্বে ভোগেন। সব মিলিয়ে একটা পর্যায়ে তারা বিপদাপন্ন হয়ে পড়েন। বিশ্বব্যাপী ৪৭ শতাংশ প্রবীণ পুরুষ ও ২৪ শতাংশ প্রবীণ নারী অনানুষ্ঠানিক শ্রমশক্তিতে অবদান রাখছেন। বাংলাদেশে এ সংখ্যা ৬৪ শতাংশ। সুতরাং সুযোগ এবং গুরুত্ব পেলে প্রবীণরাও দেশ ও সমাজ নির্মাণে অংশীদার হতে পারেন। প্রবীণ বয়সে মানুষ নানান সমস্যায় ভোগে। বিশেষ করে, সমাজে একরকম গুরুত্বহীনতায় ভোগেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, পরিবারেও অবহেলার শিকার হন।
আমাদের বেড়ে ওঠা, সমাজে মাথা তোলা সব প্রবীণদের হাত ধরেই। অথচ বয়স হলে তাঁরাই হয়ে পড়েন সমাজ ও পরিবারের বোঝা। বৃদ্ধ বয়সে তাদের সঙ্গ দিতে হবে, গুরুত্ব দিতে হবে তাদের যুক্তি-পরামর্শের। সরকারের জনকল্যাণ কাজের অংশ হিসেবে প্রবীণদের বাড়তি সুযোগ প্রদান করে সক্রিয় সক্ষম নাগরিকে রূপান্তর করা প্রয়োজন। প্রবীণদের নিরাপত্তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। ভাবতে হবে, প্রবীণরাও আমাদের সমাজেরই একটা অংশ। নিশ্চিত হোক প্রবীণ অধিকার।
মোহাম্মদ রায়হান, শিক্ষার্থী, সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা
