মির্জা আবু হেনা কায়সার টিপু
সবুজ শ্যামল বাংলাদেশের হাজার হাজার জনপথের ভিড়ে ক’টা পথের নাম ভালোবাসা সড়ক (লাভ রোড) আমার জানা নেই। ঢাকাতে একটি সড়কই লাভ রোড নামে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়া। সেটি তেজগাঁওয়ে অবস্থিত। এক সময়ের জনপ্রিয় বেইলি রোড লাভ রোড নামকরণ পায়নি। যদিও ঢাকার নাটকপাড়া নামে খ্যাত বেইলি রোড তারুণ্যের প্রাণকেন্দ্র ছিল, এখনও ফুরিয়ে যায়নি। এটাও লাভ রোডের নামকরণে সিক্ত হতে পারতো অঘোষিতভাবে! জোড়া তরুণ-তরুণীর দু-দণ্ড প্রাণভরে আড্ডার ঐতিহাসিক ও জনপ্রিয় এই বেইলি রোড। নাট্যকর্মী ও সম্মানিত নাটকের দর্শকদের আনাগোনায় যে বেইলি রোড এক সময় সরোবর থাকতো তা এখন আর অবশিষ্ট নেই। জনপ্রিয় নাটকপাড়া বেইলি রোড অনেকটাই নিষ্প্রাণ। কিন্তু বেইলি রোডকে বাঁচিয়ে রেখেছে জোড়া তারুণ্য। ঢাকা শহরের আসল লাভ রোড আসলেই বেইলি রোড! লাভ রোড হিসেবে তার স্বীকৃতি থাক বা না থাক
কাগজপত্রে অন্তত একটা স্বীকৃত লাভ রোড তো আছে বাংলাদেশে! সেটা তেজগাঁওয়ে, এটাও কম কথা নয়। আমাদের কিশোর তারুণ্য জোড়ায় জোড়ায় বাংলাদেশের যে সড়কের পাশেই অবলীলায় আড্ডায় মেতে উঠবে নির্দ্বিধায়, বসে পড়বে স্বাধীন প্রেমময় ভাবাবেগে তাড়িত হয়ে। একটু সময় দু’জনের মাঝে সাজবে সুন্দরের সুনিপুণ তারুণ্য আলোছায়ায়। সড়কের পাশে এই নিশ্চিত বসে পড়া, যেন তারা মুক্ত বিহঙ্গ কোনো শাসন-বারণ স্পর্শ করছে না স্বাধীন এই একান্ত অনুভূতি প্রকাশে। এই জোড়া তারুণ্য ভরপুর সব সড়কই লাভ রোড। আমরা তার নাম দিই আর না দিই।
ঢাকার উত্তরাতে একটি লাভ রোডের সন্ধান পেলাম! অঘোষিত লাভ রোড এটি, কোনো স্বীকৃতি নেই। নেই ঠিকানায় লিখতে পারা উপস্থিতি! তারপরও সেটি লাভ রোডের খেতাবে পরিচিত। অধিবাসীরা ব্যাঙ্গ করেই নামকরণ করেছেন। উত্তরা ৮নং সেক্টরের সড়কগুলোর নম্বর নেই। এই সেক্টরের পুরোটাই সরকারি কোয়ার্টার। সরকারি প্রথম শ্রেণির অফিসার কোয়ার্টার, বাংলা একাডেমি স্টাফ কোয়ার্টার ও বাংলাদেশ পুলিশ স্টাফ কোয়ার্টারের পাশের সড়ক এটি। আলাওল অ্যাভিনিউ হয়ে দক্ষিণ উত্তরমুখি সড়কটিই উত্তরার লাভ রোড। কিছু মানুষ যদিও অসুন্দর মানসিকতা নিয়ে এই সড়কটির বিকৃত নাম উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে এই নামটির প্রকাশ ঘটিয়েছে। আসলেই তা সৌন্দর্যের মাধুরীতে সাজিয়েছে নির্জন সড়কটির অবয়ব।
তারুণ্যর এমন উন্মুক্ত আড্ডা আমার কাছে সবুজ সতেজ সুন্দরেরই বহিঃপ্রকাশ। এটা জাগ্রত থাকাই চাই, অবশ্যই থাকা চাই।
