বাবার কাছে চিঠি

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:১৫

হুমায়রা রজনী

 

হূদয়ের সব কথা হয়তো ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। গেলে ভালো হতো। গেলে বলা হতো অনেক কথাই। বলা হতো, আব্বু, তোমার ভারী কণ্ঠ, বলিষ্ঠ শব্দ, দৃঢ় মানসিকতা আমাকে খুব আকৃষ্ট  করে।’ বলা হতো, সারা সপ্তাহ শেষে কি একটা শুক্রবারও তুমি আমাদের সময় দিতে পারো না? খাবার টেবিলে বসে তোমাকে অনেক মিস করি। বলা হতো, আসমানী রঙয়ের পাঞ্জাবিতে কিন্তু তোমাকে বেশ মানায়! চশমার ফ্রেমটা চেঞ্জ করতে পারো না? অনেক পুরোনো হয়েছে। বলা হয় না। সব কথা বলা যায় না।

তবুও যখন মাঝে মাঝে মনে পড়ে, খুব ছোটবেলায় তোমার কনিষ্ঠ আঙুল ধরলেই আমার মুঠো ভরে যেত, ভাবতাম তুমি বুঝি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মানুষ! খুব ছোটবেলায় আম্মু যখন বেশি করে ভাত মুখে তুলে দিতো তুমি ধমক দিয়ে বলতে, ‘অল্প অল্প করে দাও, গলায় ভাত বেঁধে যাবে।’

একবার তোমার পোশাক ইস্ত্রি করতে গিয়ে হাতে ছ্যাঁকা খেয়ে পুড়িয়ে ফেলেছিলাম পোশাকটা। ভেবেছিলাম তুমি বকবে। কিন্তু তুমি একটুও বকনি। বরং আমার হাতটা কতখানি পুড়েছে তাই নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলে! মেডিকেল  ভর্তি পরীক্ষায় যখন  তোমাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল এলো না, ভেবেছিলাম তুমি বুঝি আমার ওপর ভীষণ রাগ করবে। অথচ তুমি বললে, ‘মাত্র এক মার্কের জন্যই তো হয়নি, তুমি তো ভালোই করেছো মণি।’

যখন মনে পড়ে তুমি একদিন বলেছিলে, ‘তোমাদের জন্যই তো বেঁচে থাকা।’ জানো আব্বু, তখনই, ঠিক তখনই খুব চিত্কার দিয়ে বলতে ইচ্ছে হয়, ‘ভালোবাসি তোমাকে আব্বু। ভীষণ ভালোবাসি।’

 

লেখক: শিক্ষার্থী, পুরকৌশল বিভাগ, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়