যখন তাঁরা ছিলেন তোমার মতো ছোট

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:০৬

বন্ধুরা, যদি তোমাদের বলি, তোমাদের মাকে নিয়ে একটি গল্প লিখতে হবে, কয় লাইন লিখতে পারবে? তোমরা কি জানো একজন ব্যক্তি ‘মা’ নামে একটি উপন্যাস লিখে সারা পৃথিবীতে জনপ্রিয় হয়ে আছেন? তিনি ম্যাক্সিম গোর্কি।

ম্যাক্সিম গোর্কির ছোটবেলাটা ছিল খুবই বেদনাদায়ক। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তাঁর বাবা মারা যান। মা দ্বিতীয় বিয়ে করে নিজের সুখের পথ বেছে নেন। ম্যাক্সিম গোর্কি বড় হতে থাকেন তাঁর বদমেজাজি দাদার কাছে। দাদা তাঁর স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়ে ছোটখাটো কাজে লাগিয়ে দেন। মুচির দোকানে জুতা পালিশ, ছবি আঁকিয়ের দোকানে বয়ের কাজ, জাহাজের বাবুর্চির সহকারী—এমন সব কাজ তাঁকে করতে হয়েছে পেটের তাগিদে। মন দিয়ে কাজ করতেন, কিন্তু কোথাও মালিকের কাছ থেকে ভালো ব্যবহার পাননি তিনি। সবখানেই তাঁকে সহ্য করতে হয়েছে অমানবিক নির্যাতন আর অত্যাচার। অনেক খাটাখাটনির পরও প্রায়ই তাঁকে না খেয়ে থাকতে হতো, শীতের রাতে গরম কাপড় জুটত না শরীরে। এমন কষ্টের জীবন তোমার হলে কী করতে তুমি?

বিদ্যালয়ের শিক্ষা তিনি না পেলেও জীবনকে খুব কাছ থেকে নিবিড় করে দেখার ও শেখার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। আর সেই বাস্তব শিক্ষাই তাঁকে ‘মা’-এর মতো কালজয়ী উপন্যাস সৃষ্টিতে সাহায্য করেছিল।

তখন ভলগা নদীতে চলাচলকারী এক জাহাজের বাবুর্চির সহকারী হিসেবে কাজ করেন ম্যাক্সিম গোর্কি। এসময় কাজের ফাঁকে প্রচুর বই পড়ার সুযোগ হয় তাঁর। সেই বই পড়াই তাঁকে পরবর্তীসময়ে বড় মাপের লেখক হওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছিল। যদি তুমি বড় কোনো লেখক হতে চাও, তবে অবশ্যই তোমাকে প্রচুর বই পড়তে হবে। বই পড়তে ভালো লাগে তো তোমার?

স্কুলে গিয়ে তোমরা কী করো? একটা ছেলে স্কুলে গিয়ে প্রায়ই তার শিক্ষকদেরকে প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে অতিষ্ঠ করে তুলত। যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে শিক্ষকেরা ছেলেটির মায়ের কাছে নালিশ জানালেন এই বলে যে, ছেলের মাথায় গণ্ডগোল আছে। মানে পাগল। কিন্তু মা জানতেন এটা পাগলামো নয়। সবকিছু জানার অসীম আগ্রহ থেকেই তাঁর ছেলে এমনটা করে। সেই ছেলেটির নাম টমাস আলভা এডিসন। বড় হয়ে তিনিই হলেন পৃথিবীবিখ্যাত বিজ্ঞানী।

এডিসন সারা জীবনে প্রায় এগারশোটিরও বেশি জিনিস আবিষ্কার করেছেন, যা আর কোনো বিজ্ঞানীর পক্ষে এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি।

এডিসনের বয়স তখন মাত্র দশ বছর। সেই বয়সেই তাঁর আত্মমর্যাদা ছিল বেশ টনটনে। তিনি স্বাধীনভাবে চলতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাইলেন। বাড়ির পাশে পতিত জমিতে শুরু করলেন শাকসবজির চাষ। বড় একটা খাঁচা কিনে তাতে পোষতে লাগলেন কয়েকটা হাঁস-মুরগি। শাকসবজি আর হাঁস-মুরগির ডিম বেচে তিনি কিছু টাকা জমালেন, যেন এটা-ওটা কেনার জন্য বাবা-মা’র কাছে টাকা চাইতে না হয়। তুমিও তো চাইলে এমন কিছু করতে পারো যাতে চকলেট কেনার জন্য, খেলনা কেনার জন্য কারও কাছে হাত পাততে না হয়। এডিসনের বাবা যথেষ্ট বড়লোক ছিলেন। তবু বালক এডিসন বাবার অনুমতি নিয়ে রেলগাড়িতে সংবাদপত্র বিক্রি ও খাবার বিক্রির চাকরি নিলেন। উদ্দেশ্য, নিজের পায়ে দাঁড়ানো,  নিজের শক্তির প্রতি আত্মবিশ্বাস তৈরি করা।

এডিসনের আরেকটি গুণ ছিল, ধৈর্য ধরার ক্ষমতা। বৈদ্যুতিক বাল্ব আবিষ্কার করতে গিয়ে তিনি প্রায় একশোবারের মতো ব্যর্থ হয়েছিলেন। কিন্তু চেষ্টা ছেড়ে দেননি। সবশেষে তিনি সফল হয়েছিলেন বলেই আজ তোমরা ইলেকট্রিক লাইটের নিচে বসে পড়াশোনা করতে পারো। তুমি বারবার ব্যর্থ হতে থাকলে কতবার চেষ্টা করো? মনে রেখো, ব্যর্থতা থেকে অভিজ্ঞতা বাড়ে।