সকাল হতে না হতেই শুভর হাকডাক শুরু। রাতে সে রকম ঘুম হয়নি। মনে তার খুশির জোয়ার। মা যতবার বলেছে, তুমি ঘুমাও বাবা, আমিই তোমাকে ডেকে দেবো। আমিই তো নিয়ে যাবো স্কুলে। কিন্তু কিছুতেই শুভকে স্কুল যাওয়ার ভাবনা থেকে নিবৃত্ত করা যাচ্ছে না। একধরনের আনন্দ ও উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছে সে। বহুদিন পর স্কুলে যাবে। এজন্য নতুন করে আয়োজনে ব্যস্ত তার মা। শুভকে নিয়ে নতুন স্কুল ড্রেস, জুতা কিনে দিয়েছেন। আগের ড্রেস দুটি ছোট ও পুরনো হয়ে গেছে। শুভ’র জেদে নতুন ব্যাগও কেনা হলো। সকালে মুখে মাস্ক পরে মায়ের সাথে স্কুলে এল সে। স্কুলে আসার পথে শুভ মা’র কাছে জানতে চায়, এত খুশি লাগছে কেন আম্মু? আম্মু হাসেন। বহুদিন পর স্কুলে যাবি, ক্লাস হবে। স্যার, ম্যাডাম, ক্লাসমেটদের সাথে দেখা হবে—এজন্য মনে এত আনন্দের ঢেউ খেলছে। শুভ মাকে জড়িয়ে ধরে বলল, একদম ঠিক বলেছ আম্মু।
স্কুলের সামনে গিয়েই সে দেখতে পেল, বেলুন ও ফুল দিয়ে গেট সাজানো হয়েছে। তাদের বরণ করার জন্য নানা আয়োজন। মা’র কাছে থেকে বিদায় নিয়ে ঢুকতেই হাততালি দিয়ে স্বাগত জানাল স্কাউটস সদস্যরা। কিছুদূর এগিয়ে যেতে তার শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হলো। পরে হ্যান্ড স্যানেটাইজার দিয়ে হাত ওয়াশ করে শ্রেণিকক্ষে ঢুকল সে। সহপাঠিরা হুল্লোড় করে স্বাগত জানাল। স্বাস্থ্যবিধি মেনে তারা শ্রেণিকক্ষে বসল। একে অপরের সাথে নানা কথা, কুশলাদি বিনিময় হলো। আসলেন ম্যাডাম। তারা সবাই একসাথে শুভসকাল বলে ম্যাডামকে স্বাগত জানাল। ম্যাডামও প্রথম ক্লাসে সকলের কুশলাদি জানলেন। ক্লাস শুরু করলেন।
বহুদিন পর প্রাণের ক্যাম্পাসে ফিরে তাদের শিশুমন উচ্ছ্বাসে দোল খাচ্ছে। টানা ঘরে থাকার একঘেয়েমি শেষে নতুন করে শুরু হলো আবার ক্লাস। তাদের বাধভাঙা আনন্দ-কলরবে মুখরিত হয়ে উঠল প্রিয় শিক্ষাঙ্গন। মাস্ক-ঢাকা মুখের আড়ালেও তাদের চোখে ভেসে উঠছে সুখের ঝিলিক। অনেকদিন পর অফুরন্ত হাওয়ার মাঝে মুক্ত পরিবেশে আসতে পেরে শুভ খুব খুশি। প্রিয় স্কুল ক্যাম্পাসের পরিচিত পরিবেশ সেই উচ্ছ্বাসের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে আরো। তার মনের মতোই সবকিছু আজ। চারদিক জুড়ে এক আনন্দমেলা, সেখানে বইছে অনাবিল খুশির জোয়ার।
