নওগাঁর রাণীনগরে পাতাশি (৩৫) নামের প্রবাসফেরত এক গৃহবধূকে তার স্বামী ও বড় সতিন মিলে অ্যাসিড নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আরো তিন শিশু আহত হয়েছে। আহতদের রাণীনগর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার উপজেলার মিরাট ইউনিয়নের আতাইকুলা মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
অ্যাসিড নিক্ষেপ করে স্বামী ওসমান ও তার বড় স্ত্রী নারগিছ পারভীন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে গ্রামবাসী দুই জনকে আটক করে রাণীনগর থানা পুলিশে সোপর্দ করেছে। অ্যাসিডে ঝলসে যাওয়া ঐ গৃহবধূকে রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক উন্নত চিকিত্সার জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে রেফার করেন।
জানা গেছে, উপজেলার মিরাট ইউনিয়নের আতাইকুলা মধ্যপাড়া গ্রামের মজনু সরদারের মেয়ে সৌদি প্রবাসী পাতাশি বেগমের সঙ্গে তিন বছর আগে আত্রাই উপজেলার আন্ধারকোটা গ্রামের করিম প্রামাণিকের ছেলে ওসমানের বিয়ে হয়। কিছুদিন সংসার করার পর বড় সতিনের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় এক পর্যায়ে পাতাশি বেগম সৌদি আরবে চলে যায়। তখন থেকে স্বামীর সঙ্গে তার যোগাযোগ ঠিক মতোই ছিল। এমনকি তার স্বামী ওসমানের নামে বেশ কিছু টাকাও পাঠান তিনি। ১০ দিন আগে পাতাশি বেগম সৌদি আরব থেকে ছুটি নিয়ে তার বাবার বাড়ি রাণীনগর উপজেলার আতাইকুলা গ্রামে আসেন। এমন খবর পেয়ে স্বামী ওসমান গত মঙ্গলবার বিকালে পাতাশির বাবার বাড়িতে যান। বৃহস্পতিবার পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক ওসমানের বড় স্ত্রী নারগিছ পারভীন আতাইকুলা গ্রামে পাতাশির বাবার বাড়িতে আসেন। সেখানে কথাবার্তার এক পর্যায়ে নারগিছ তার ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে বোতলভর্তি অ্যাসিড পাতাশির মাথা, মুখমণ্ডল, হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে নিক্ষেপ করেন। এ সময় পাতাশির চিত্কারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে অ্যাসিডে দুই শিশুসহ আরো তিন জন আহত হয়। আহতরা হলেন—ঐ গ্রামের এন্তাজ সরদারের মেয়ে রিতা (১৩), সাগরের মেয়ে খাতিজা (৭) ও আজিজুলের ছেলে আকাশ (৯)। তাদের রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় গ্রামবাসী ওসমান ও তার বড় স্ত্রী নারগিছ পারভীনকে আটক করে রাণীনগর থানা পুলিশে সোপর্দ করে।
রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) তারিকুল ইসলাম জানান, অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই জনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
