নীট গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএ ২০১৬-২০১৮ সালের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ও বিশেষ সাধারণ সভা(ইজিএম) অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রুটের সস্তাপুর এলাকায় অবস্থিত নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল পার্কের অভ্যন্তরের সংগঠনটির প্রায় ১হাজার সদস্যের উপস্থিতিতে উক্ত ইজিএম ও সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এজিএম অনুষ্ঠিত হয়েছে। অপরদিকে রাত ৮টায় একই স্থানে সংগঠনটির ২২ বছর পূর্তি উপলক্ষে সদস্য প্রতিষ্ঠানের পুর্নমিলনী ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত পুর্নমিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য এ.কে.এম শামীম ওসমান।
বার্ষিক সাধারণ সভায় সংগঠনটির সভাপতি ও সদর-বন্দর আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান ২০১৬ সালের জানুয়ারী থেকে ২০১৮ সালের জুন মাস পর্যন্ত বিকেএমইএ এর সকল আয়-ব্যয়ের হিসেব প্রদান করেছেন, যা লিখিত আকারে আগেই সকল সদস্যদের কাছে পৌছে দেওয়া হয়েছিল। এজিএম সম্পর্কে কারো কোন প্রশ্ন না থাকায় সর্ব সম্মতিক্রমে এজিএম এর সকল আলোচ্যসূচী সমূহ অনুমোদিত হয়। প্রকাশিত হিসেব অনুযায়ী সংগঠনটির ২০১৬ সালের জানুয়ারীতে ব্যাংকে রক্ষিত থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি ৪৬ লাখ ১২২ টাকা। ২০১৮ সালের জুন মাসে এসে ব্যাংকে রক্ষিত নগদ অর্থের পরিমাণ দাড়িয়েছে ২৯ কোটি ২৪ লাখ ৩হাজার ৫৭টাকা।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হয় বিশেষ সাধারণ সভা(ইজিএম)। সভায় বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমান উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা ছিল নারায়ণগঞ্জ থেকে বিকেএমইএ এর সকল কর্মকান্ড পরিচালনা করতে হবে। সেই মোতাবেক বিকেএমইএ চাষাঢ়ায় নবাব সলিমুল্লাহ রোডে খাজা সুপার মার্কেটের পেছনের অংশে ২০০৪ সালে ৬৫ লাখ ৪৬ হাজার ৫’শ টাকা মূল্যে ১০ দশমিক ৬২ শতাংশ জমি ক্রয় করে ছিল। যেখানে ২০১৬ সালের ৯ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত হওয়া ইজিএমে সদস্যবৃন্দ বিকেএমইএ কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ১৫ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন দিয়েছিলেন। ইতোমধ্যে কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজে বেইজমেন্ট ও গ্রাউন্ড ফ্লোর তৈরিতে ২ কোটি ৪৫ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ব্যয় করেছে। কিন্তু বিকেএমইএ এর ক্রয়কৃত জায়গার সামনের অংশের জমি টুকু কখনো রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), কখনো নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন, আবার কখনো বা ব্যক্তিগত মালিকানা দাবী করা হয়েছে। বর্তমানে জমিটি নিয়ে রাজউকের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের দায়ের করা মামলা চলমান রয়েছে। এমতাবস্থায় ২০১৯ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে যদি উক্ত অংশটুকু নিয়ে মামলা মোকদ্দমা শেষ না হয়, সেক্ষেত্রে বিকেএমইএ এর পরিচালনা পর্ষদের ২০১৬ সালের ইজিএমে অনুমোদিত হওয়া বাজেটের ১৫ কোটি টাকা থেকে অন্যত্র নতুন জমি ক্রয় করে বিকেএমইএ কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে বলে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এজিএম ও ইজিএম শেষে সংগঠনটির ২২ বছর পূর্তি উপলক্ষে সদস্য প্রতিষ্ঠানের পুর্নমিলনী ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। কাটা হয় বিশাল কেক। অনুষ্ঠানে বিকেএমইএ সদস্যবৃন্দদের পক্ষ সংগঠনটির সভাপতি এ.কে.এম সেলিম ওসমানকে ৫৩ ভরি রোপ্য খচিত একটি সম্মাননা পদক উপহার প্রদান করা হয়।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংঙ্গীত পরিবেশন করেন দেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কুমার বিশ্বজিত ও কনা। বিকেএমইএ এর সভাপতি ও সদর-বন্দর আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের সভাপতিত্বে এজিএম ও ইজিএম অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, বিকেএমইএ এর প্রথম সহ সভাপতি মনসুর আহম্মেদ, দ্বিতীয় সহ সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, সহ সভাপতি(অর্থ) হুমায়ন কবির খান শিল্পী, পরিচালক মঞ্জুরুল হক ও আবু আহম্মেদ সিদ্দিক।
