১৯৭১ সাল। দেশে শুরু হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ। রাজবাড়ী জেলার বর্তমান বালিয়াকান্দি উপজেলার সোনাপুরের অশ্বিনী বাবু পরিবার-পরিজন নিয়ে দেশত্যাগ না করে নিজ বাড়িতেই থেকে যান। খুব ধনী না হলেও সচ্ছল মানুষ ছিলেন তিনি। এক পর্যায়ে পাকিস্তানি আর্মিরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাঁর বাড়িতে হানা দেয়। বাড়ির সবকিছু লুট করে নেয়। বাধা দেওয়ায় গুলি করে মারা হয় অশ্বিনি বাবুকে। তিনটি শিশুসন্তান নিয়ে বিপাকে পড়েন অশ্বিনি বাবুর স্ত্রী রাই কিশোরী। সমস্ত সম্পদ বিক্রি করে সন্তানদের ভরণপোষণের খরচ চালাতে থাকেন। সন্তানরা আস্তে আস্তে বড় হয়। কিন্তু রাই কিশোরীর জীবনে সুখ আসে না। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে বর্তমানে তিনি রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার মালঞ্চী গ্রামে জামাই সন্তোষ বিশ্বাসের বাড়িতে আশ্রয় পেয়েছেন। এটা তাঁর মেয়ের বাড়ি। বয়সের ভারে অত্যন্ত দুর্বল এই বৃদ্ধা। ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না। দেশের জন্য তাঁর স্বামী জীবন দিল। অকালে বিধবা হলেন। একটি সাজানো সংসার ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। অথচ বিধবাভাতা, বয়স্কভাতা বা কোনো আর্থিক সাহায্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে পেলেন না। আমরা কি দাঁড়াতে পারি না এই বৃদ্ধার পাশে? রাষ্ট্রের কি কোনো দায়িত্ব নেয় তাঁর প্রতি?
সমীর জোয়ারদার
সহকারী অধ্যাপক, কাদিরদী কলেজ, বোয়ালমারী, ফরিদপুর
০
