প্রয়োজন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মমুখী শিক্ষা

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:২০

রিপন কুমার দাস

 

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২,২৫৮টি কলেজ রয়েছে। সহস্রাধিক কলেজে অনার্স-মাস্টার্স পড়ানো হয়। ২৯ লাখ শিক্ষার্থী এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পড়াশোনা করে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন সব বিষয়ে পড়ানো হয়,  যেগুলো শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে না। ফলে বিপুলসংখ্যক স্নাতক ডিগ্রিধারী  দেশের সামাজিক অর্থনীতিতে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি পাচ্ছে। কিন্তু শিক্ষার অন্যান্য বিষয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা। অনার্স-মাস্টার্স পাস করেও কমিউনিকেট করা, ক্রিটিক্যালি থিংকিং ও প্রবলেম সলভিং শিখছে না। বর্তমানের একাডেমিক শিক্ষা তাদের সফট স্কিলগুলো শেখাচ্ছে না। এসব স্কিল শিক্ষার্থীদের শেখা অপরিহার্য। সফট স্কিল না থাকায় চাকরিদাতাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদধারীরা, ফলে তারা বেকার থাকছে। উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের ঢালাওভাবে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে না। কারণ কোনো অর্থনীতিই বিপুল সংখ্যক অনার্স-মাস্টার্সধারীকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে পারে না। কোনো শিক্ষার্থীর হাতে যখন অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রির সনদ থাকে, তখন তিনি সমাজে নিজের মানমর্যাদা নির্ধারণ করে ছোটখাটো কোনো কাজ করেন না। এতে বিপুলসংখ্যক সনদধারী শিক্ষার্থী বেকার থাকে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণে বাংলাদেশে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে অনার্স ও মাস্টার্সের সিলেবাসের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট করা প্রয়োজন। ৪ বছর  মেয়াদি অনার্স কোর্স বা ৩ বছরের কোর্সে শিক্ষার্থীরা যে বিষয়ে পড়বে, সেটির সঙ্গে টেকনিক্যাল অথবা জব ওরিয়েন্টেড সাবজেক্টের একটি পুল অব কোর্স সংযুক্ত করতে হবে।

কর্মমুখী শিক্ষা ৩ বছর মেয়াদি স্নাতক (পাস) ও ৪ বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) উভয় কোর্সেই পরিচালিত হতে হবে। স্নাতক (পাস) কোর্সের জন্য প্রতিটি ট্রেডে ৩টি করে পত্র থাকবে, যার NTVQF-এর মান হবে NSC-৩।  ১ম, ২য় ও ৩য় বর্ষে ১টি করে পত্র থাকবে, ১ম বর্ষে ১ম পত্র, ২য় বর্ষে ২য় পত্র ও ৩য় বর্ষে ৩য় পত্র। স্নাতক (সম্মান) কোর্সের জন্য প্রতিটি ট্রেডে ৪টি করে পত্র থাকবে, যার NTVQF-এর মান হবে NSC-৪। ১ম, ২য় ১টি করে ও ৩য় বর্ষে ২টি করে পত্র থাকবে, ১ম বর্ষে ১ম পত্র, ২য় বর্ষে ২য় পত্র, ৩য় বর্ষে ৩য় পত্র ও ৪র্থ পত্র থাকবে। শিক্ষার্থীরা ১ম পত্রে NTVQF-এর NSC-১, ২য় পত্রে NTVQF-এর NSC-২, ৩য় পত্রে NTVQF-এর NSC-৩ ও  ৪র্থ পত্রে NTVQF-এর NSC-৪ সনদপ্রাপ্ত হবে। প্রতিটি নৈর্বাচনিক ট্রেড বিষয়ের প্রতিটি পত্রের তাত্ত্বিকে ২ ক্রেডিট ও ব্যবহারিকে ৪ ক্রেডিটসহ মোট ৬ ক্রেডিট নির্ধারিত থাকবে। প্রতি সপ্তাহে প্রতিটি পত্রে ১টি ক্লাস ঘণ্টা ও ব্যবহারিকে ৬টি (৩×১=৩ করে ২টি ক্লাস) ক্লাস-ঘণ্টাসহ মোট ৭টি ক্লাস-ঘণ্টা নির্ধারিত থাকবে। প্রতিটি পত্রে তাত্ত্বিকে ৫০ নম্বর ও ব্যবহারিকে ১০০ নম্বরসহ মোট ১৫০ নম্বর নির্ধারিত থাকবে। তত্ত্বিয় পত্রসমূহের জন্য ৪৫ মিনিটের একটি ক্লাসকে এক ক্লাস-ঘণ্টা ধরা হবে, ১৫ ক্লাস ঘণ্টাকে ১ ক্রেডিট হিসেবে গণনা করা হবে। ট্রেড বিষয়ে পৃথক বই প্রণয়ন না করে NTVQF লেবেলের CBLM-এর  ভিত্তিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় প্রতিটি সাধারণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভোকেশনাল কোর্স চালুর জন্য প্রতিটি ট্রেডে ২০ জন করে শিক্ষার্থীর কথা উল্লেখ রয়েছে। প্রতিটি ট্রেডে ১ জন করে ট্রেড ইন্সট্রাক্টর ও ট্রেড সহকারীর পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। তাই স্নাতক (পাস) ও স্নাতক (সম্মান) কোর্সে কর্মমুখী শিক্ষা চালুর জন্য প্রতিটি ট্রেডে ২০ জন শিক্ষার্থীর আসন সৃষ্টি করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রতিবর্ষে ৬০ জন শিক্ষার্থী থাকলে ঐ প্রতিষ্ঠানে ৩টি ট্রেড, একইভাবে ১০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৫টি ট্রেড থাকবে। প্রতিটি ট্রেডের জন্য স্নাতক (পাস) প্রতিষ্ঠানে ৯ম গ্রেডের প্রভাষক সমমর্যাদার ১ জন সিনিয়র ট্রেড ইন্সট্রাক্টর ও স্নাতক (সম্মান) প্রতিষ্ঠানে ২ জন সিনিয়র ট্রেড ইন্সট্রাক্টর পদ সৃষ্টি করতে হবে। এছাড়া প্রতিটি ট্রেডের জন্য ১ জন করে ট্রেড সহকারীর পদ সৃষ্টির প্রয়োজন হবে। সিনিয়র ট্রেড ইন্সট্রাক্টর পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং বা বিএসসি টেকনিক্যাল এডুকেশন বা ব্যাচেলর অব ভোকেশনাল এডুকেশন ডিগ্রি অথবা কারিগরি ডিপ্লোমাসহ ট্রেড ইন্সট্রাক্টর পদে ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্তি থেকে ৫ বছরের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করা যেতে পারে। এছাড়া এমপিওভুক্ত সিনিয়র ট্রেড ইন্সট্রাক্টরগণ ভোকেশনাল শিক্ষাক্রমে আট বছর সন্তোষজনক চাকরি পুর্তিতে ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী অধ্যাপক সমমানের চিফ ট্রেড ইন্সট্রাক্টর পদে পদোন্নতির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, ফলে পদের সংখ্যা হ্রাস বা বৃদ্ধি হবে না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মমুখী শিক্ষা চালুর মাধ্যমে বেকার সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে।

পটুয়াখালী