স্পোর্টস রিপোর্টার
ব্যাটিংয়ে আগের ছবিটাই অক্ষত রয়েছে। টপঅর্ডারে তরুণরা ব্যাট হাতে জ্বলে উঠতে ব্যর্থ। দলকে টানার গুরুভার বইলেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। অনেক বিতর্ক শেষে ওয়ানডে দলে ফেরা সাব্বির রহমান দিয়েছেন রানে ফেরার ইঙ্গিত। তবে বোলিংয়ে আশা জাগানিয়া চিত্র রয়েছে। মুস্তাফিজুর রহমানকে পড়তে কষ্ট হয়েছে স্বাগতিকদের। মেহেদী হাসান মিরাজ, মাহমুদউল্লাহদের অফস্পিনও কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা জাগিয়েছে।
তবে শেষ পর্যন্ত একমাত্র ওয়ানডে প্রস্তুতি ম্যাচটা হেরে গেছে নিউজিল্যান্ড সফররত বাংলাদেশ দল। গতকাল প্রস্তুতি ম্যাচে নিউজিল্যান্ড একাদশের বিরুদ্ধে দুই উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। মুশফিক-মাহমুদউল্লাহদের মতো অভিজ্ঞরা থাকলেও মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে ম্যাচটা খেলেছিল সফরকারীরা। আগে ব্যাট করে মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর হাফ সেঞ্চুরিতে ৪৬.১ ওভারে ২৪৭ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে ৪৮.১ ওভারে আট উইকেটে ২৫১ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় স্বাগতিকরা।
বার্ট সাটক্লিফ ওভালের লিঙ্কনে সার্বিকভাবে বলে-ব্যাটে দলের পারফরম্যান্সে অসন্তুষ্ট নন মিরাজ। গতকাল ম্যাচ শেষে এই তরুণ অলরাউন্ডার বলেছেন, ‘আজকের (গতকাল) ম্যাচটা আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমরা শেষ একমাস টি-২০ ম্যাচের ভেতর ছিলাম, বিপিএল খেলেছি। আজকে (গতকাল) ৫০ ওভারের ম্যাচ খেলেছি। এখন সামনে ওয়ানডে সিরিজ আছে। আমার কাছে মনে হয় যে আজকের (গতকাল) ম্যাচটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন কেমন হবে এবং আমাদের ব্যাটসম্যানরা এখানে ব্যাটিং করলে অভ্যস্ত হবে, বোলাররা বোলিং করলে অভ্যস্ত হবে। এটা আমাদের জন্য খুব ভালো সুযোগ ছিল। আমরা সেটা শতভাগ কাজে লাগাতে পেরেছি বলে মনে হয়।’
গতকাল টসে হেরে আগে ব্যাট করা বাংলাদেশ ৩১ রানেই হারিয়ে বসে চার উইকেট। ড্রেসিংরুমে ফেরার দলে যোগ দেন লিটন দাস (৩), মুমিনুল হক (৬), সৌম্য সরকার (১), মিঠুন (১)। পঞ্চম উইকেটে দলের হাল ধরেন মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ। তারা ১০৮ রানের জুটি গড়েন। ইনিংসের ২৭তম ওভারে ফিরেন মুশফিক। তিনি ৬২ রান করেন। ষষ্ঠ উইকেটে সাব্বিরের সঙ্গে ৩৫ রান যোগ করেন মাহমুদউল্লাহ। দলীয় ১৭৪ রানে আউট হওয়ার আগে মাহমুদউল্লাহ ৭২ রান করেন। মিরাজ (৭) সঙ্গ দিতে পারেননি সাব্বিরকে। ৪২তম ওভারে সাব্বির ফিরেন ৪০ রান করে। শেষ দিকে নাঈম হাসান অপরাজিত ১৭, মুস্তাফিজ ১২ রান করেন। স্বাগতিকদের পক্ষে ম্যাকপিক চারটি, হ্যাজেলডাইন-রবীন্দ্র দুটি করে, ব্রাউন-সোলিয়া একটি করে উইকেট নেন।
রান তাড়া করতে নেমে দারুণ শুরু পেয়েছিল নিউজিল্যান্ড একাদশ। ওপেনিং জুটিতেই আসে ১১৪ রান। রাভালকে আউট করে ব্রেক থ্রু এনে দেন নাঈম হাসান। রাভাল ৫২ রান করেন। অপর ওপেনার ফ্লেচার আট রানের জন্য সেঞ্চুরি বঞ্চিত হন। ৯২ রান করে মুস্তাফিজের শিকার হন তিনি। পরে অ্যালেনের ৩০, ক্লার্কের ১৯, রবীন্দ্রর ১৭, সোলিয়ার ১১ রানে জয়ের কাছাকাছি চলে যায় স্বাগতিকরা। কিন্তু শেষ দিকে কিছুটা বাধার দেয়াল গড়েন মিরাজ-মুস্তাফিজ। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। চু, হ্যাজেলডাইনের ব্যাটে জয় নিশ্চিত করে রাভালের দল। বাংলাদেশের মুস্তাফিজ, মিরাজ, মাহমুদউল্লাহ দুটি করে, সৌম্য-নাঈম হাসান একটি করে উইকেট নেন।
ইতোমধ্যে নিউজিল্যান্ডে পৌঁছেছেন মাশরাফিরাও। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি নেপিয়ারে প্রথম ওয়ানডেতে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ দল।
