স্পোর্টস রিপোর্টার
সময় ঘনিয়ে আসছে। নারী ফুটবল দল মিয়ানমার যাবে ২৩ ফেব্রুয়ারী। শেষ প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন। মিয়ানমারে এএফসি অনূর্ধ্ব—১৬ ফুটবলের দ্বিতীয় রাউন্ডের বাছাই পর্বের খেলা। পালাক্রমে দুই দেশে বাছাই হবে। ‘এ’ গ্রুপের খেলা মিয়ানমারে এবং ‘বি’ গ্রুপের খেলা লাওসে। মিয়ানমারে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ফিলিপাইনের বিপক্ষে ২৭ ফেব্রুয়ারী। ১ মার্চ মিয়ানমার এবং ৩ মার্চ চীনের বিপক্ষে বাংলার নারী ফুটবলারদের শেষ খেলা। অন্য গ্রুপে খেলবে অস্ট্রেলিয়া, ভিয়েতনাম, ইরান এবং স্বাগতিক লাওস। দুই গ্রুপ হতে চ্যাম্পিয়ন এবং রানার্সআপ চার দলের সঙ্গে যুক্ত হবে দল; খেলবে স্বাগতিক থাইল্যান্ড, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া, রানার্সআপ দক্ষিণ কোরিয়া এবং তৃতীয় স্থান পাওয়া জাপান। এই ৮ দেশ নিয়ে চূড়ান্ত পর্বের লড়াই।
মিয়ানমারের প্রতিপক্ষদের নিয়ে কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, চীন এবং মিয়ানমারের সঙ্গে কম্পিটিভি ফুটবল খেলেননি। পরিষ্কার ধারণা নেই। তবে চীনের খেলোয়াড়দের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে।’ ২০১৭ সালে বাংলাদেশের মেয়েরা চীনে গিয়েছিল প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে। সেখানে অনূর্ধ্ব—১৪ ফুটবল দলের বিপক্ষে ২টি এবং প্রাদেশিক দলের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলেছিল। চীনের মেয়েরা কেমন ফুটবল খেলে সেটা তখন দেখার সুযোগ হয়েছিল। চারটি ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। ছোটন বলছেন, ‘চীনের মেয়েদের ফুটবল নিয়ে ধারণা আছে। এইটুকুই ব্যাস। আর কিছু না। তারও অনেক উন্নত। আর মিয়ানমারের বিপক্ষে অলিম্পিক ফুটবল বাছাইয়ে খেলেছিলাম গত বছর।’ ছোটন পরিকল্পনা করছেন, ‘মিয়ানমারের বিপক্ষে ভালো রেজাল্ট করতে হবে। আমার ভাবনাটা মিয়ানমারকে নিয়ে।’ ছোটনের কথায় স্পষ্ট। মিয়ানমারকে ঘায়েল করতে চান তিনি। এই ম্যাচটা যদি জেতা যায় তাহলে উতরে যাওয়া যাবে।
মিয়ানমার অভিযান শেষ করে এসে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল যাবে নেপালে। ১২-২২ মার্চ নেপালের বিরাত নগরে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ। সাফ আরো বড় পরীক্ষা। ভারত শক্তিশালী দল এখানে।
ছোটনের দল মিয়ানমার এবং সাফের প্রস্তুতি একই সঙ্গে সেরে নিচ্ছে। কারণ, যে মেয়েরা মিয়ানমার খেলবে সেই মেয়েরাই সাফে খেলবে। তবে অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল দলে সিনিয়র আট-নয়জন ফুটবলার রয়েছেন তারা সাফে খেলবেন। এই আট-নয়জনও মিয়ানমার যাবেন এবং দলের সঙ্গে প্রস্তুতির মধ্যেই থাকবেন। অনূর্ধ্ব—১৬ ফুটবলাররাও সাফে খেলবেন।
ছোটন বলছিলেন, তার দলের মেয়েরা ভারতের মতো শক্তিশালী নয়। ভারত অনেক দিন ধরে নারী ফুটবলে পথ মাড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। সেই তুলনায় বাংলাদেশের মেয়েরা ততটা অভিজ্ঞ হয়নি। ভারতের কমলা দেবী, বালা দেবীদের মতো বয়সের খেলোয়াড়দের সঙ্গে মারিয়া মান্ডা, মৌসুমী, সানজিদাদের মতো উঠতি খেলোয়াড়দের তুলনা হয় না। তবে স্বপ্নবাজ কোচ ছোটনের আশা এখনকার জুনিয়র ফুটবলাররা কয়েক বছর পর ভারতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়াই করবে।
