সরকারের ডিজিটাল সেবায় সহজে পাসপোর্ট প্রাপ্তি, খুশী না’গঞ্জবাসী

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ২৩:৫৭

নারায়ণগঞ্জবাসীর ভোগান্তি কমাতে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) সেবা দিচ্ছে সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সহজেই পাসপোর্ট পেয়ে যাচ্ছেন আবেদনকারীরা। অনলাইন কার্যক্রম হওয়ায় এমআরপি সেবা অনেক গতিশীল হয়েছে। সরকারের ডিজিটাল সেবায় সহজেই পাসপোর্ট হাতে পেয়ে দারুণ খুশী নারায়ণগঞ্জবাসী। দ্রুত ও সহজলভ্য সেবা দেওয়ায় সদ্য সমাপ্ত উন্নয়ন মেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরস্কার পায় নারায়ণগঞ্জের এই আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস। 

আগে নারায়ণগঞ্জবাসীর পাসপোর্ট পেতে ঢাকার আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে যেতে হতো। সময়মত পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য প্রচুর টাকা খরচ করে দালালের সহায়তা নিতে হতো, অন্যথায় মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও পাসপোর্ট হাতে পেত না কোনো নাগরিক। নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস চালু হওয়ার পর থেকে কোনোরকম ভোগান্তি ছাড়াই নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্ট হাতে পাচ্ছেন নাগরিকরা।

বর্তমান সরকার ২০১৪ সালের ৬ জুলাই সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস চালু করে। শুরুতে নানা সমস্যা থাকলেও ধীরে ধীরে সেসব সমস্যা কাটিয়ে উঠেছে এই অফিস। বর্তমানে এ অফিসে ১৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিরলসভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ফলে লোকজন সহজেই পেয়ে যাচ্ছেন তাদের কাঙ্ক্ষিত পাসপোর্ট। দিন দিন পাসপোর্ট ডেলিভারির সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৬ সালে ৭২ হাজার ৫২৩টি পাসপোর্ট আবেদনকারীর হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়। ২০১৭ সালে ১ লাখ ২ হাজার ৮৬টি ও চলতি বছরে কয়েকদিন আগ পর্যন্ত ১ লাখ ৮ হাজার ৯৮৭টি পাসপোর্ট ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের ডিজিটালাইজেশন পলিসির কারণে বছরে লক্ষাধিক পাসপোর্ট সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

কয়েকদিন আগে সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকায় অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে দেখা যায়, আবেদনকারীরা লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদন ফরম জমা দিচ্ছে। আরেক কক্ষে ছবি তোলা ও স্বাক্ষর দেওয়ার জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছেন আবেদনকারীরা। কেউ কেউ পাসপোর্ট হাতে নিয়ে হাসি মুখে বের হয়ে আসছেন। সোনারগাঁ উপজেলা থেকে এসেছেন আছিয়া বেগম। তিনি কোনো ভোগান্তি ছাড়াই জমা দিয়েছেন আবেদন পত্র। রূপগঞ্জের সালাম জানান, ‘যথা সময়েই আমার পাসপোর্ট হাতে পেয়েছি। আমি সৌদি আরব  যেতে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছিলাম।’ একই এলাকার মামুন মিয়া জানান, ‘আমি আমার মোবাইলে মেসেজ পেয়ে পাসপোর্ট নিতে এসেছি। সংসারে সচ্ছলতা আনতে সিঙ্গাপুর যেতে চাই।’

সদর উপজেলার এনায়েত নগরের বাসিন্দা আসলাম মিয়ার উচ্ছ্বাসের শেষ নেই। তিনি জানান, পাসপোর্ট হাতে পেয়ে খুব আনন্দ লাগছে, যা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। এখন তিনি অপেক্ষা করছেন কখন বিদেশে পাড়ি দেবেন। আর দেশে স্বজনদের কাছে টাকা পাঠাবেন।

নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মাকসুদুর রহমান জানান, সরকারের ডিজিটালাইজেশনের কারণেই দ্রুত পাসপোর্ট প্রদান করতে পারছি। ‘ই-পাসপোর্ট’ প্রদান শুরু হলে পাসপোর্ট কার্যক্রম আরও দ্রুত ও সহজ হবে। তিনি বলেন, আমরা প্রতিবন্ধী বা অসুস্থ রোগীর জন্য হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করেছি। এছাড়াও সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে দালাল শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে যাতে গ্রাহকরা কোনো প্রকার ভোগান্তিতে না পড়েন।