দাকোপে অবৈধ জালে মাছ শিকার

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:০৮

কমেছে খালের গভীরতা

বিধান চন্দ্র ঘোষ দাকোপ (খুলনা) সংবাদদাতা

দাকোপে চড়া নদী, পূর্ব বাজুয়া, কচাসহ বিভিন্ন এলাকার খাল ও জলাশয়ে চলছে ছোট ফাঁসের জালে মাছ শিকার। খালে আড়াআড়ি টোনা জাল ও পাটাতন নেটের বেড়া দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এতে পানি নিষ্কাশনসহ নানা প্রতিবন্ধকতায় খালে পলি জমছে। ফলে দিনদিন খালগুলোর গভীরতা কমে আসছে। পানি না পেয়ে কৃষিকাজও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিপাকে পড়েছেন এলাকার হাজারো কৃষক। 

স্থানীয়রা জানান, সুন্দরবন উপকূলঘেঁষা এই উপজেলায় বিভিন্ন নামে ২২৮টির বেশি খাল ও জলাশয় রয়েছে। এসব অধিকাংশ সরকারি খাস খাল নামমাত্র ইজারা নিয়ে ইজারাদার ও কতিপয় অসাধু ব্যক্তি দখলে রেখেছেন। তারা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধ জাল দিয়ে আড়াআড়িভাবে বাঁধ, খণ্ড খণ্ড টোনা জাল, নেট জাল, পাটা জাল, চাক জাল, কারেন্ট জাল ও পাটাতন নেটের বেড়া দিয়ে মাছ শিকার করছেন। এতে পলি জমে খালের গভীরতা কমছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা দুর্বল হয়ে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। কৃষকের বীজতলা ও রোপা আমনের ক্ষয়ক্ষতি বেড়ে চলেছে। অন্যদিকে পোনা মাছ নিধন হওয়ায় কমছে দেশি প্রজাতির মাছ।

চুনকুড়ি এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য জীবনানন্দ মন্ডল, সুদিপ্ত সরদার, দুলাল মোড়লসহ একাধিক কৃষক জানান, ইজারাদারেরা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে খালে আড়াআড়ি নেটপাটা ও টোনা জাল দিয়ে মাছ শিকারের কারণে পানি সরবরাহে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা দুর্বল হয়ে এবং পলি পড়ে খালের গভীরতা কমে যাচ্ছে। এছাড়া শুকনো মৌসুমে খালের পানি সেচে ফেলে দিয়ে মাছ ধরে নেওয়ায় কৃষকেরা সেচের সংকটে রবিশস্যসহ বোরো চাষ করতে পারেন না। এমনকি রবিশস্যের খেতেও সেচ দিতে পারেন না। 

কৈলাশগঞ্জ এলাকার ইউপি সদস্য সিন্ধু রায় বলেন, খালে বিভিন্ন জাল পেতে রাখার কারণে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া অসংখ্য দেশি প্রজাতির মাছের পোনা নিধন হচ্ছে। অবিলম্বে বিভিন্ন খালের সব জাল অপসারণ এবং কৃষকের কথা বিবেচনা করে খালগুলোর ইজারা বন্ধের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান খান জানান, খালগুলোর গভীরতা কমে যাওয়ায় এবং জলাবদ্ধতার কারণে এ বছর চলতি আমন মৌসুমে কৃষকদের ৯৬ দশমিক ৫ হেক্টর বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৮৭০ হেক্টর বীজতলা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা সেলিম সুলতান বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এসব অবৈধ জাল উচ্ছেদ করার জন্য অভিযান পরিচালনা করা হবে।