ভ্রমণপিয়াসীদের পদচারণায় প্রায় সারা বছরই মুখর থাকে পর্যটন নগরী বান্দরবান পার্বত্য জেলার পর্যটনকেন্দ্রসমূহ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিবার-পরিজন বা বন্ধু-বান্ধবসহ দল বেঁধে এখানে আসেন। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অধিকাংশ পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াত নিরাপদ ও সহজ হলেও দুর্গম অঞ্চলের কিছু পর্যটনকেন্দ্র এখনো নানাবিধ বিপদের অভয়ারণ্য। আর রোমাঞ্চপ্রিয় অপেক্ষাকৃত তরুণ পর্যটকদের অসীম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুর শীর্ষে রয়েছে এসব দুর্গম ও বিপদসংকুল পথের জায়গাগুলোই। দুঃসাহসী পর্যটকদের অনেকেই এসব স্থানে গিয়ে নিজেদের জীবনের নিরাপত্তার কথা ভুলে গিয়ে এমন কিছু কাজ করেন যার ক্ষতিপূরণ চুকাতে হয় মূল্যবান জীবন দিয়ে! মূলত ঝরনায় গোসল করা ও নদীপথে হাঁটা বা নৌকা চালনার ক্ষেত্রে তারা মৌলিক কিছু নিয়মের প্রতি চরমভাবে উদাসীন থাকা এবং সাঁতার না জানা ও স্রোতের প্রতিকূলে সাঁতারে অনভ্যস্ততা হেতু পর্যটকদের তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। আবার বিভিন্ন আকারের পাথরের খাঁজে পা আটকে যাওয়াটাও অনেক সময় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া অতিরিক্ত সাহস, নৈপুণ্য প্রদর্শন ও ঝুঁকি নিয়ে ছবি তোলার লোভ সামলাতে না পারার ব্যর্থতাও দুর্ঘটনা বা নিশ্চিত মৃত্যুর উপলক্ষ্য হয়। মূলত এসবই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বান্দরবানের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কিছু পর্যটনকেন্দ্রে একাধিক পর্যটকের অপ্রত্যাশিত ও মর্মান্তিক মৃত্যুর মূল কারণ। পাথুরে ঝিরি-ঝরনা, নদী ও পাহাড় মিলিয়ে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা এসব পর্যটনকেন্দ্রে অনেকক্ষেত্রেই মেলে না মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক। ফলে সংশ্লিষ্টরা বিপদের সময় যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা থেকেও বঞ্চিত থাকেন। তাই বান্দরবানের অপার সৌন্দর্য ও রূপসুধা পানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের এসব বিষয়ের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদানের অনুরোধ করছি।
আবু ফারুক
বনরুপা পাড়া, সদর, বান্দরবান
