কুমিল্লার নোয়াগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের নোয়াগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুশিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হচ্ছে টিন দিয়ে নির্মিত একচালার ঘরে। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরের মেঝেতে পানি গড়িয়ে পড়ে। ভিজে যায় টেবিল-চেয়ার, শিক্ষার্থীদের বই-খাতা, পোশাক ও আসবাবপত্র। অন্যদিকে রোদে টিনের তাপে দুর্ভোগ পোহাতে হয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। তারা জানায়, বিদ্যালয়ের মূল ভবন জরাজীর্ণ। ছাদ ও বিম থেকে খসে পড়ে পলেস্তারা। দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কায় তিন বছর আগে ঐ টিনের চালা তৈরি করে পাঠদান করছেন শিক্ষকরা।
সরেজমিনে জানা যায়, বিদ্যালয়ের মূল ভবন নির্মাণের কয়েক বছর না যেতেই বৃষ্টির পানিতে ছাদ ও দেওয়াল চুইয়ে স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়ায় ভবনটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এক পর্যায়ে অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিশুশিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে ভবনের ছাদ ও বিমের পলেস্তরার আংশিক খসে পড়লে ঐ ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মফিজুর রহমান বলেন, ২০১৮ সালে এ বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী ছিল। তখন জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান ব্যাহত হলে সদর আসনের এমপি (আ.ক.ম বাহাউদ্দিন) এবং স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের সহায়তা নিয়ে পাঁচ কক্ষের একচালা টিনশেড তৈরি করে পাঠদান শুরু করা হয়। তিনি আরো বলেন, বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে তা ভেঙে সেখানে একটি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ২০১৮ সালের জুলাই মাসে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয় ও চলতি বছরের জুনে কুমিল্লা সদর আসনের এমপি মহোদয়ের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত এমন বেহাল অবস্থার কারণে বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৬৩ জনে নেমে এসেছে। নতুন ভবন নির্মাণ করা হলে শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি হবে, শিক্ষার্থীও বৃদ্ধি পাবে। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) প্রান্তিক সাহা বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময় বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছেন। বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি জরাজীর্ণ হওয়ায় সেখানে পাঠদান করতে নিষেধ করা হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। এখনো অনুমোদন পাওয়া যায়নি।
