১২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ
প্রত্যাশা বাংলাদেশি জাহাজ নির্মাতাদের
ইত্তেফাক রিপোর্ট
বৈশ্বিক জাহাজ নির্মাণশিল্প চাঙ্গা হতে শুরু করেছে। দীর্ঘ ১০ বছরের মন্দাভাব কাটিয়ে ফের ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে এই শিল্প। চীনা ও কোরিয়ান জাহাজ নির্মাতাদের পর্যাপ্ত নির্মাণাদেশ থাকায় বাংলাদেশি জাহাজ নির্মাতারা ২০২২ সালের মধ্যে ১৫০ কোটি ডলারের (১২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা) রপ্তানি আদেশ প্রত্যাশা করছেন।
উল্লেখ্য, ২০০৯-২০১০ সালের গ্লোবাল ফাইনান্সিয়াল ক্রাইসিস বা অর্থনৈতিক সংকট এবং ইউরোজোন সংকটের প্রভাবে সমুদ্র পথে পণ্য পরিবহন ভাড়া আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছিল। ফলে জাহাজ নির্মাণশিল্পেও সংকট তৈরি হয়েছিল। চীনা অ্যাসোসিয়েশন ফর দি ন্যাশনাল শিপ বিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রির এক পূর্বাভাস প্রতিবেদন অনুযায়ী চলতি বছর অর্থাত্ ২০২১ সালে তাদের নতুন জাহাজ নির্মাণাদেশ ৯ কোটি ডিডব্লিউটি (একটি জাহাজের কত ওজন বহন করতে পারে তার পরিমাপ) ছাড়িয়ে যাবে। কেননা চীনা জাহাজ নির্মাতারা চলতি বছরের প্রথমার্ধের মধ্যেই ২ কোটি ৮৩ লাখ ৯০ হাজার ডিডব্লিউটির কার্যাদেশ নিশ্চিত করেছে।
সিএএনএসআই মহাসচিব লি ইয়ানকিং উল্লেখ করেছেন জাহাজ নির্মাণশিল্পে গত ১০ বছরের মন্দাভাব পরিবর্তিত হয়েছে। সিএএনএসআইয়ে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সেটিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইতিমধ্যে বালটিক ড্রাই ইনডেক্স কনটেইনার পরিবহনের জন্য সর্বোচ্চ ভাড়ার হার রেকর্ড করেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিশ্লেষণ অনুযায়ী বৈশ্বিক শিপইয়ার্ডগুলো এক বছর আগেও সংকটাপন্ন ছিল। কিন্তু এখন তারা নতুন কার্যাদেশ পাচ্ছে। ফ্রেইটোস বালটিক সূচক অনুযায়ী, সামুদ্রিক পণ্য পরিবহন ভাড়া এক বছরে প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বব্যাপী মহামারি চলাকালীন হোম অর্ডারের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় চীন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে পণ্য পরিবহন ভাড়া বেড়ে প্রায় ৭ হাজার মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ফলে শীর্ষস্থানীয় শিপিং প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, যদি ৪ শতাংশ হারে চাহিদা বাড়ে সেক্ষেত্রে জাহাজ নির্মাণশিল্প ২০২৬ সাল নাগাদ ১৬ হাজার ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার (১৪ লাখ কোটি টাকার বেশি) পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণশিল্প বর্তমানে বিশ্বব্যাপী চাহিদার অন্তত ১ শতাংশ পূরণে সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত এবং আগামী ৫ বছরে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের নতুন জাহাজ নির্মাণের অর্ডার নিশ্চিত করতে সক্ষম। এ খাতে যদি রপ্তানি ১ শতাংশ বৃদ্ধি পায় সেক্ষেত্রে বাড়তি ১ লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। আমেরিকা ও ইউরোপীয় জাহাজ মালিকরা ছোট এবং অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী জাহাজ নির্মাণে চীন, জাপান ও কোরীয়ান শিপইয়ার্ডের বদলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জাহাজ নির্মাতাদের ওপর নির্ভর করতে চায়।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের ৮ জুন প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বে শীর্ষস্থানীয় জাহাজ নির্মাতারা ওভারবুকড থাকায় তারা আর নতুন জাহাজের নির্মাণাদেশ গ্রহণ করছেন না। বিশ্ববাজারের সাম্প্রতিক এই উত্থানের ফলে ২০২২ সালের মধ্যে বাংলাদেশি জাহাজ নির্মাতাদের রপ্তানি খাতে এক বড় সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
