পাকিস্তানের ক্রিকেটকে খুন করল নিউজিল্যান্ড— টুইটারে লিখেছেন শোয়েব আখতার।
রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেসের এই টুইটের মাধ্যমে পাকিস্তান ক্রিকেটের বর্তমান টালমাটাল ছবি যে কারো সামনে ভেসে উঠবে।
আবারও সংকটের ঘূর্ণাবর্তে পড়ে গেল পাকিস্তান ক্রিকেট। নিরাপত্তার হুমকির কারণে পাকিস্তান সফর বাতিল করে ফিরে গেছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল। ১৮ বছর পর পাকিস্তানে এসে কোনো ম্যাচ না খেলেই ফিরল কিউইরা। অতিথিদের এমন প্রস্থান অনেক প্রশ্ন, সংকটের অগ্নিগর্ভে ফেলে দিল পাকিস্তানের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভবিষ্যেক। অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে, পিসিবির প্রাণপণ চেষ্টার পর পাকিস্তানের মাটিতে ফিরেছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট।
২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কা দলের ওপর জঙ্গি হামলার পর ছয় বছর পাকিস্তানে নির্বাসিত ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। বাধ্য হয়ে দেশ ছেড়ে আমিরাতের মরুর বুকে হোম সিরিজ খেলত দেশটি। পরে বিশ্বের বিভিন্ন ক্রিকেট বোর্ডের দুয়ারে দুয়ারে ধর্না দিয়েছে পিসিবি। ২০১৭ সালে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ফাইনাল ঘরের মাঠে আয়োজনের মাধ্যমে পিসিবি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিল, পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য নিরাপদ। যার ধারাবাহিকতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়ে, বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা দল পাকিস্তান সফর করেছে।
পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সিরিজ নিয়মিত হয়ে উঠছিল। নিরাপত্তাহীনতার অপবাদ পুরোপুরি ঘুচানোর আগেই বড় ধাক্কা খেল দেশটি। গত ১৭ সেপ্টেম্বর সিরিজের প্রথম ওয়ানডের টসের আগে নিরাপত্তার হুমকির কারণে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড দলকে হোটেল ছাড়তে বারণ করা হয়। পরে সরকারের নির্দেশনায় এককভাবে সিরিজ বাতিল করে নিউজিল্যান্ড দল। এমনকি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের হস্তক্ষেপেও কাজ হয়নি। সাবেক এ অধিনায়ক ও রাষ্ট্রনায়ক কথা বলেছিলেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর্ডেনের সঙ্গে। কথা বলেও সিরিজ অব্যাহত রাখতে পারেননি।
খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সফর বাতিল করে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড (এনজেডসি)। তিন ওয়ানডে ও পাঁচ টি-২০-র সিরিজ তাই মাঠে গড়ায়নি। গত শনিবারই কিউইদের ৩৪ জনের বহর চার্টার্ড বিমানে দুবাই পৌঁছে গেছে। দুবাই থেকে ২৪ জন ফিরে যাবে দেশে। বাকিরা টি-২০ বিশ্বকাপের জন্য দুবাই থেকে যাবেন।
গতকাল এক বিবৃতিতে এনজেডসির প্রধান নির্বাহী ডেভিড হোয়াইট বলেছেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি যে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের জন্য সময়টা খুবই কঠিন। আমি শুধু এটা বলতে পারি, আমরা জেনেছি যে, দলের ওপর সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য হুমকি ছিল।’ এ ঘটনার পর অক্টোবরে ইংল্যান্ডের পুরুষ ও নারী দলের পাকিস্তান সফর অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে গেল। দুটি টি-২০ খেলতে যাওয়ার কথা ইংলিশদের। ২০ বছর পর আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চে অস্ট্রেলিয়া দলেরও পাকিস্তানে আসার কথা। সব কিছুই নিরাপত্তাহীনতা ও শঙ্কার চাদরে ঢাকা পড়ল। যদিও এমন অবস্থায় রসিকতার ছলে পাকিস্তানের পক্ষে টুইট করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন ক্রিস গেইল। ইউনিভার্স বস খ্যাত ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং দানব লিখেছেন, ‘আমি আগামীকাল পাকিস্তান যাচ্ছি, কে আমার সঙ্গে যাবে?’
পাকিস্তান অভিমুখে গেইল সহযাত্রী পাবেন কি না, তা সময়ই বলে দিবে।
