জঙ্গি সম্পৃক্ততা আছে কি না খতিয়ে দেখবে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৪৮

ঢাকার রাজারবাগ দরবার শরিফ ও এর পির দিল্লুর রহমানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য জানতে অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। দুদককে এই অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে দরবার শরিফের কোনো কর্মকাণ্ডে জঙ্গি সম্পৃক্ততা আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটকে বলা হয়েছে। এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রবিবার এই আদেশ দেন। এছাড়া রিট আবেদনকারী আট ব্যক্তির বিরুদ্ধে    দেশের বিভিন্ন জেলায় করা একাধিক মামলার বাদী ও সাক্ষীদের বিষয়ে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই তিনটি সংস্থাকেই দুই মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। এসব বিষয়ে অনুসন্ধান করার ক্ষেত্রে রাজারবাগ দরবার শরিফের ওপর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের করা অনুসন্ধান প্রতিবেদনটিকে বিবেচনায় নিতে বলা হয়েছে।

রাজারবাগ দরবার শরিফ ও এর পিরের সম্পদ এবং ব্যাংক হিসাব তলব চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন আট ব্যক্তি। রিটকারীগণের দাবি, পিরের মুরিদদের দায়েরকৃত মিথ্যা মামলায় তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। শুধু হয়রানির শিকারই নন, তারা বছরের পর বছর জেল খেটেছেন। শুধু সম্পদ লিখে না দেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দেশের বিভিন্ন জেলায় দায়ের করা হয়েছে।

রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, রিটকারী কেউ কাউকে চেনেন না। বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জেলে গিয়ে তাদের পরিচয় হয়েছে। এরা জামিন পেয়ে যখন বেরিয়ে যাবে তখনই একের পর এক মামলা করা হয়েছে। যার অধিকাংশই মানব পাচার মামলা। আদালত বলেন, এদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার কারণ কী?

শিশির মনির বলেন, শুধু সম্পত্তি দখলের জন্যই এসব মামলা। মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্টেও তা উঠে এসেছে। আদালত বলেন, দেশের মানুষ ধর্মভীরু। অনেকেই নিজ থেকে মসজিদ মাদ্রাসায় দান করে থাকেন। আইনজীবী বলেন, তাই বলে কি ধর্মের নামে একজন দরবার শরিফের পির এভাবে ব্যবসা করবে। সম্পত্তি দখলের জন্য মানুষের নামে মিথ্যা মামলা দেবে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার বলেন, ধর্মের নামে যারা ব্যবসা করছে, মানুষকে প্রতারিত করছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া দরকার। শুনানি শেষে হাইকোর্ট অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের পাশাপাশি রুল জারি করে।

পরে রিটকারী আব্দুল কাদের বলেন, সবুজবাগের বাসাবোয় জমি ছিল। সেটা লিখে না দেওয়ায় আমার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা করা হয়। মাহবুবুর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে চারটি মামলা করা হয়। একটি মামলায় জামিন পেয়ে বেরিয়ে যাওয়ার আগেই আরেকটি মামলা করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত সম্পত্তি হস্তান্তর না করায় রাজারবাগ দরবার শরিফের পির দিল্লুর রহমান ও তার অনুসারীদের সঙ্গে শত্রুতার সৃষ্টি হয় একরামুল আহসান কাঞ্চনের। এই শত্রুতার কারণেই ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় ৪৯টি হয়রানিমূলক মামলা করা হয় তার বিরুদ্ধে। এসব মামলার পেছনে দরবার শরিফের পির ও তার উল্লিখিত অনুসারীগণ তাদের অশুভ স্বার্থ হাসিলের জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার প্রমাণ পায় সিআইডি। পুলিশের এই বিশেষ তদন্ত সংস্থার করা তদন্ত প্রতিবেদনটি ইতিমধ্যেই হাইকোর্টে দাখিল করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কাঞ্চনের বিরুদ্ধে ২৩টি জিআর (থানায়) এবং ২৬টি সিআর (আদালত) মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি জিআর এবং ২০টি সিআর মামলা হতে আদালত কর্তৃক খালাসপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি। বর্তমানে ১৪টি মামলায় বিচারাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে আটটি জিআর এবং ছয়টি সিআর মামলা।