কলিজা পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ। দেহে শক্তি জোগাতে, লিবিডো বাড়াতে, পেশি ও মগজের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে এবং সার্বিক স্বাস্থ্য রক্ষায় কলিজার গুরুত্ব অনেক। কলিজা ভিটামিন ‘এ’, ‘বি’ ভিটামিন এবং অ্যারাকিডোনিক অ্যাসিড, ডিএইচএ-র অন্যতম প্রধান উত্স, যেগুলো স্বাস্থ্যকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে।
ইঁদুরের ওপর গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, লিভারে এমন একটি অ্যান্টি ফ্যাটিগ ফ্যাক্টর আছে যা ইঁদুরের দীর্ঘক্ষণ সাঁতারে সহনশীলতা বাড়ায়। গবেষকদের মতে লিভারে কারনিটিন, লিপোয়িক অ্যাসিড এবং আরো কিছু উপাদান থাকে যা সম্ভবত শক্তির অফুরন্ত উত্স।
কলিজা থেকে ভিটামিন ‘এ’ পাওয়া যায় পর্যাপ্ত। ১০০ গ্রাম মিষ্টি আলুতে ১,৫০০ আইইউ এবং গাজরে ১১৪৫ আইইউ ভিটামিন ‘এ’ থাকে। অন্যদিকে ১০০ গ্রাম গরুর কলিজায় ২৫,৮০০ আইইউ, টার্কি গিবলেটে ৩৫,৮০০ আইইউ। দৃষ্টিশক্তি অক্ষুণ্ন রাখতে, প্রজনন স্বাস্থ্য রক্ষায় এবং ভ্রুণ-শিশুর বিকাশে এই ভিটামিন গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু তা-ই নয়, আধুনিক গবেষণায় জানা যায়—ব্লাড সুগার ও চর্বি নিয়ন্ত্রণে, ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে, শিশুমৃত্যু রোধে এবং টক্সিন ও রোগ প্রতিরোধসহ অনেক কাজেই এই ভিটামিন ‘এ’ প্রয়োজন।
কলিজায় প্রাপ্ত অ্যারাকিডোনিক অ্যাসিড এবং ডিএইচএ ফ্যাটি অ্যাসিড পেশিকে দৃঢ় ও মজবুত করতে এবং দ্রুত রোগ নিরাময় ও ক্ষয় রোধে ভূমিকা রাখে। কলিজার পর্যাপ্ত বি-ভিটামিন, বায়োটিন ও ভিটামিন ‘সি’ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সাহায্য করে।
লিভারে বা কলিজায় কোলেস্টারল মাত্রা বেশি। মুরগির কলিজায় ৫.৬১ (mg/g), চিকেন গিবলেটে ৪.৪২ (mg/g), গরুর কলিজায় ৩.৮১ (mg/g), টার্কি গিবলেটে ২.৮৯ (mg/g) কোলেস্টারল থাকে। কোলেস্টারলের ভালো-মন্দ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে অনেক তর্ক-বিতর্ক আছে। তবে লিভার যে পুষ্টি উপাদানে পরিপূর্ণ এবং স্বাস্থ্যপ্রদ এতে কোনো সন্দেহ নেই।
কায়েদ-উয-জামান
