‘অভিনয়ই আমার মূল পেশা’

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:১০

প্রায় এক দশক ধরে চলচ্চিত্রে নিজেকে প্রমাণ করতে নিয়মিত কাজ করছেন চিত্রনায়ক নিরব হোসেন। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিটি ছবিতেই ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র ও লুকে উপস্থাপন করছেন নিজেকে। বর্তমানে ব্যস্ত তারকার তালিকায় থাকা এই অভিনেতা নিজের নতুন ছবি, অভিনয় ভাবনাসহ সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে।

সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল

বর্তমান কাজের ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাই—

সম্প্রতি ‘অমানুষ’ ছবিটির শুটিং শেষ করলাম। পাশাপাশি হাতে রয়েছে ‘ক্যাশ’, ‘ছায়াবৃক্ষ’, ‘বিধাতা’সহ বেশ কয়েকটি ছবির কাজ। এছাড়া আগামী ১ অক্টোবর অনন্য মামুনের ‘কশাই’ ও আসিফ ইকবাল জুয়েলের ‘চোখ’ ছবি দুটি মুক্তি পাচ্ছে এবং ‘ক্যাসিনো’, ফিরে দেখা’, ‘তিতুমীর’, ‘রৌদ্রছায়া’ ছবিগুলোও মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

অনেকদিন পর আপনার দুটি ছবি একসঙ্গে মুক্তি পাচ্ছে। করোনা পরবর্তী এই সময়ে এমন সিদ্ধান্ত ঝুঁকিপূর্ণ নয় কী?

দেখুন, অনেকদিন পর আমার দুটি ছবি মুক্তি পাচ্ছে, এটা অনেক আনন্দের বিষয়। দর্শকরাও অনেকদিন হলে গিয়ে ছবি দেখার সুযোগ পায়নি। তাছাড়া দুটি ছবির গল্পই আলাদা। তাই আমার বিশ্বাস দুটি ছবিই তাদের ভালো লাগবে।

ইদানিং প্রতিটি ছবিতেই নিজেকে ভিন্ন ভিন্নরূপে হাজির করছেন। এটা কী সময়ের চাহিদায়?

আমি কিন্তু শুরু থেকেই বিভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমে নিজেকে ভাঙার চেষ্টা করছি। তাছাড়া অন্যান্য দেশের মতো আমরাও ওটিটি বা অন্যান্য কারণে একটু ভিন্নভাবে এগিয়ে যাচ্ছি। যেখানে গল্প নির্ভর কাজ বেশি হচ্ছে। তাতে প্রতিটি চরিত্রেই ভিন্নতা থাকছে। তাই আমিও এটাকে সুযোগ মনে করে নতুন নতুন এক্সপেরিমেন্টাল কাজ করছি।

‘অমানুষ’ ছবিটির নির্মাতা-শিল্পীর দ্বন্দ্বের খবরে বেশ আলোচনা চলছে। বিষয়টি নিয়ে একজন সহকর্মী হিসেবে কী মন্তব্য করবেন?

দেখুন, একসঙ্গে কাজ করতে গেলে ছোটখাটো ঝামেলা হতেই পারে। কাজ করতে গিয়ে যেমন ভালো অভিজ্ঞতা হয়, তেমনি খারাপ অভিজ্ঞতাও হয়। তাদের মাঝেও হয়তো তেমনই কিছু একটা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

আপনার সমসাময়িক অনেকেই নিয়মিত অভিনয় করছেন। তারপরও নতুন স্টার তৈরি হচ্ছে না। এ জন্য কাকে দায়ী করবেন?

কেন হচ্ছে না সেটা তো বলা মুশকিল। কারণ এর সঙ্গে অনেককিছুই জড়িত। ভালো গল্প, শৈল্পিক নির্মাণ, হিরো-হিরোইন, সাবলীল অভিনয়সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়েই কিন্তু একটি ভালো কাজ হয়। তবে এ ধরনের কাজ কতটা হচ্ছে সেটাও আমাদের দেখতে হবে।

সম্প্রতি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়েছেন। এটা কী ক্যারিয়ারের প্রয়োজনে?

না, ক্যারিয়ারের প্রয়োজনে নয়। কারণ অভিনয়ই আমার মূল পেশা। তবে ওনারা অফার করার পর মনে হলো এটি নতুন একটি অভিজ্ঞতা হতে পারে আমার জন্য। তাই কাজটিতে যুক্ত হয়েছি।

সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্ক নিয়ে নানা কটুকথা শোনা যায়। আপনার দৃষ্টিতে এই সম্পর্ক কেমন?

আমার সঙ্গে তো সিনিয়রদের সঙ্গে অনেক ভালো সম্পর্ক। তবে এটা সত্য, তাদের সঙ্গে কাজের সম্পর্ক অনেক কমে গেছে। তারা নিয়মিত কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলে এই সম্পর্ক আরো দৃঢ় হতো।

ওটিটি নিয়ে নিরবের পরিকল্পনা ও প্রত্যাশা কী?

এখন ওটিটির যুগ চলছে। এটা আমাদের জন্য নিঃসন্দেহে ভালো একটি সুযোগ তৈরি করেছে। মাধ্যমটিতে আমাদেরও বেশকিছু কাজ এরইমধ্যে প্রশংসিত হয়েছে। আসলে কাজে প্রতিযোগিতা তৈরি হলে ভালো কাজ করার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। আশা করছি ভবিষ্যতে আরো ভালো কাজ আমরা দেখতে পাবো।

ওটিটিতে ছবি মুক্তির চর্চা চলচ্চিত্র সংকট কতটা দূর করতে পারবে?

এখানে ছবি মুক্তি কোনো বিষয় না। ওটিটিতে ছবি মুক্তি দিলেই যে সংকট দূর হবে, এটা বলা যাবে না। কারণ সংকট তো শুধু ছবি মুক্তি নিয়ে না। বাজেট, হল থেকে শুরু করে নানা সমস্যা রয়েছে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে।